বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন মার্চের বেতনের সঙ্গেই

Boishakhi vataসরকারি চাকরিজীবীরা মার্চের বেতনের সঙ্গেই ‘বৈশাখী ভাতা’ পাবেন। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে হিসাব করে এই ভাতা বেতনের সঙ্গেই প্রদান করা হবে। রবিবার ২৭ মার্চ সরকারি চাকুরিজীবীদের কাছে এই বোনাসের চিঠি পাঠানো শুরু হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশাখী ভাতা বাবদ সরকারের ‘অতিরিক্ত’ ব্যয় হবে ৫৫০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, ‘বৈশাখী বোনাসে’র জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে না। কেননা অষ্টম পে স্কেলে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উৎসব ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। মার্চের বেতনের সঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব শুরুর আগেই বোনাসের ‘বাড়তি’ টাকা হাতে পেয়ে যাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা দুই ঈদে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান। তার সঙ্গে নতুন করে বাংলা নববর্ষ  নামে আরেকটি ভাতা এই প্রথমবারের মতো যুক্ত করে সরকার। চলতি বছর থেকেই এটি কার্যকর হচ্ছে। প্রতি বাংলা নববর্ষে তা দেওয়া হবে।  বর্তমানে সামরিক-বেসামরিক, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান মিলে সরকারি চাকরিজীবীদের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।

নতুন পে স্কেল গত জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই অর্থবছরে বর্ধিত ‘মূল বেতন’ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই নতুন অর্থবছর শুরু হলে বর্ধিত মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, একজন সচিবের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এ হিসাবে তিনি বৈশাখী ভাতা পাবেন ১৫ হাজার ৬০০ টাকা। একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। তিনি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পাবেন ১ হাজার ৬৫০ টাকা।

পে কমিশনের মূল প্রতিবেদনে বৈশাখী ভাতার সুপারিশ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি চালু করা হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময় তা কার্যকরের কথা বলা হয়।

পহেলা বৈশাখের বোনাস পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকে তার অনুভূতির কথা জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন।

খোকন লিখেছেন, বাঙ্গালির ইতিহাস হাজার বছরের। আজ প্রথমবারের মত মনে হলো আমি বাঙ্গালিত্বের সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছি। বাঙ্গালি সংস্কৃতিতে বলা হয় বারো মাসে তের পার্বণ। কোনো পার্বণেই উৎসব ভাতা বলে কিছু ছিলো না। এই জনপদে ধর্মের বিস্তার ঘটার অনেক আগে থেকেই আমরা বাঙ্গালি ছিলাম । এরপরও ঈদ, পূজা অর্থাৎ ধর্মীয় উৎসবে আমরা কম বেশি সবাই উৎসব ভাতা পাই। খোকন আরো লিখেন, আজ অফিসে আসার পর বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিলেন। কাগজটি দেখেই আনন্দে মনটি ভরে গেলো। পহেলা বৈশাখের উৎসব বোনাস পেয়েছি। পরিমাণে মুল বেতনের ২০% হলেও আনন্দের পরিমাণ হিসাব করা যাবেনা। সম্রাট আকবর বাংলা সন ও উৎসব চালু করে গিয়েছিলেন আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছি।

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকে হয়তো বলবেন শুধু সরকারি কর্মকর্তারা পেলেই হবে ? আমিও তাই মনে করি। সবারই পাওয়া উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংস্কৃতি চালু করেছেন। আমার বিশ্বাস শিগগিরই বেসরকারি পর্যায়ে এই উৎসব ভাতা চালু হবে।

বিষয়টি নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, এই জাতির জন্য যা কিছু ভালো তা বঙ্গবন্ধু পরিবারই দিয়েছে। বিশ্বের মধ্যে অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ইহুদীরা এখনো নিজস্ব ভূখণ্ডের জন্য সংগ্রাম করছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের যা দিয়েছেন আজ থেকে ৪৫ বছর আগে । সুতরাং বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি শেখ হাসিনায় আস্থা রাখুন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুমোদিত সরকারি চাকুরিজীবীদের অষ্টম বেতন কাঠামোতে এই বৈশাখী বোনাস বা নববর্ষ ভাতা রাখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৭ মার্চ) সরকারি চাকুরিজীবীদের কাছে বোনাসের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন