সড়ক দুর্ঘটনা হলে গাড়ি ভাঙচুর ও চালককে পিটিয়ে মারার পরিবর্তে এর কারণ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন,আমরা ড্রাইভার মারায় যতটা উৎসাহী, রোগী হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রে ততটা উৎসাহী না।
সড়ক দুর্ঘটনা হলে কেন হলো, সেটা না দেখে যানবাহনে হামলা, ড্রাইভারকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সবার আগে দেখবেন, এক্সিডেন্ট কার হলো। ড্রাইভারের দোষটা কি? পথচারীর দোষ কতটুকু? সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে কী কারণে হলো খতিয়ে দেখতে হবে।
বুধবার মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশের উদ্বোধন শেষে বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে এক সুধি সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সকল নাগরিককে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক রুল সবার জানা এবং মানা উচিত। রাস্তা পারাপারে নিয়ম মেনে চলা উচিত। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা আইন না মানার কারণেই ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নাগরিকদের আচরণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় দুর্ঘটনা হলে পথচারীরা ড্রাইভারকে ধরে মারা শুরু করে। এই সংস্কৃতির কারণে কেউ গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে ড্রাইভার তাকে বাঁচাতে গাড়ি থামান না। বরং মার খাওয়ার ভয়ে পথচারীকে পিষে চলে যান।
যানজট সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজটে আমরা অস্থির হয়ে যাই। তবে, জানতে হবে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। গাড়ি একখানের জায়গায় দুই খানা তিনখানা গাড়ি কিনছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তার সরকার যানজট নিরসনে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ঢাকা হাতিরঝিল প্রকল্প, বহুমুখি উড়াল সেতু, জিল্লুর রহমান সেতু ইত্যাদি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত, এলিভ্যটেড এক্সপ্রেস প্রকল্প হাতে আছে।
মগবাজার ফ্লাইওভার একাংশের কাজ সময় মতো শেষ করতে পারায় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও অর্থায়নকারী সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি অংশ সময় মতো করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় সাত রাস্তায় ফ্লাইওভারের উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর তিনি গাড়িতে চড়ে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে হলিফ্যামিলি অংশে গিয়ে নামেন। সেখান থেকে অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে সুধি সমাবেশে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশ। এখন থেকে এ অংশে জনসাধারণের গাড়ি চলাচল করতে পারবে।


