সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই দিয়ে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে খর্ব করা উচিত নয়। এ জাতীয় পদক্ষেপ প্রকৃতপক্ষে মানুষকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেয়। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ সফর করা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ড. সারাহ সুয়ল। এ রিপোর্ট দিয়েছে অনলাইন ভয়েস অব আমেরিকা। এতে বলা হয়, বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও সহিংস উগ্রপন্থিদের মোকাবিলা করছে। ড. সারাহ সুয়ল বাংলাদেশ সফরে বলেছেন, সিনেমা হল, রাজনৈতিক সমাবেশ ও নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিরপরাধ মানুষকে টার্গেট করছে জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের মতো গ্রুপগুলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ভয়েস অব আমেরিকা।
এতে বলা হয়, সুয়ল বলেন, সম্প্রতি কট্টরপন্থিরা কুড়িগ্রামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এর কারণ, তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। সম্প্রতি শিয়া মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলার পরই এ ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক বছরে ঠা-া মাথায় হত্যা করা হয়েছে চারজন ব্লগারকে। অভিজিতের মতো ব্লগারকে এই ঢাকায় গ্রন্থ মেলার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হামলা শুধু বাংলাদেশী জনগণের বিরুদ্ধেই নয়। একই সঙ্গে নতুন করে বিতর্ক, ধর্মীয় সহনশীলতা ও উদারতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য তা করা হয়। এক্ষেত্রে কট্টরপন্থিদের হুমকি থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করার ক্ষেত্রে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারের উচিত সুশাসন নিশ্চিত করা। আটক, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, রাজনৈতিক কর্মকা-ে বিধিনিষেধ অনুমোদনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে খর্ব করার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ব্যবহার করা উচিত নয়। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, এ জাতীয় পদক্ষেপ প্রকৃতপক্ষে মানুষকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেয়।
তবে সরকার একা এ কাজ করতে পারে না। নৃশংস কট্টরপন্থা মোকাবিলায় ধর্মীয় নেতা, নারী, ব্যবসায়ী ও যুব সমাজকে ক্ষমতায়ন করা প্রয়োজন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেধাবী ব্যক্তিদের অঙ্গীভূত করতে অবশ্যই মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকতে হবে। আন্ডার সেক্রেটারি সুয়ল বলেছেন, এর মধ্যে রয়েছে তাদের শান্তিপূর্ণ কথা বলার মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। তাদের ধর্ম চর্চা করার অধিকার রক্ষা করা। তাদের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সংগঠিত হতে দেয়ার অধিকার রক্ষা করা। এগুলো হলো মানবাধিকারের সার্বজনিন অধিকার। নৃশংস কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে এগুলো প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
যখন মানুষ প্রতিশোধের ভয় ছাড়া দুর্নীতি, পুলিশ বাহিনীর হাতে নির্যাতন, একপেশে হয়ে পড়ার কথা মুক্তভাবে বলতে পারবে তখন তারাই উগ্রপন্থিদের বেড়ে ওঠার আগেই তার বিপদ সম্পর্কে সরকারকে তারা সতর্ক করতে পারবে। আন্ডার সেক্রেটারি সুয়ল বলেন, আমার সন্দেহ নেই যে সবার অংশগ্রহণমুলক রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জনগণের শক্তির প্রতি যে গভীর রীতি প্রচলিত আছে বাংলাদেশে, যদি তারা তাতে অটল থাকতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ সুফল পাবে। এতে আমার সন্দেহ নেই।


