চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এখন মোবাইল ছিনতাইকারীর রাজত্বে। নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিদিন প্রায় কোটি লোকের যাতায়াত। এই নিউমার্কেটে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ এই মোবাইল ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়ছে।
মোবাইল ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে প্রতিনিয়ত নিঃশ্ব করছে নগরবাসীকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে নিউমার্কেট এলাকায় দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে আসে এবং কর্ম শেষে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ভাবে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সর্বহারা হতে হয় নগরবাসীকে। নিউমার্কেট এলাকা দিয়ে নগরবাসীরা চলাচল করে বাসে করে।
সেই সুবাদে বাসে জানালার পাশে বসে অনেকেই ফোন ব্যবহার করে। আর এমন পরিস্থিতি ছিনতাইকারীর নজড়ে পড়লে তো আর রেহাই নেই।
ছিনতাইকারীরা ঝাপটা মেরে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। আর মেয়েরা যখন ওই মোড়ে রিক্সা দিয়ে চলাচলের সময় হাতব্যাগ নিয়ে গেলে ঝাপটা মেরে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাই কারীরা। এই এলাকায় ইদানীং খুব বেশি ঝাঁপটা বাজ দেখা যাচ্ছে।
কানে স্বর্ণ, এমিটিশান ঝুমকা থাকলে সেটাও জোরে টান মেরে নিয়ে যায়, এতে অনেকেই আহত হয়েছেন।
এছাড়া যারা ট্রেনে চলাচল করে চিটাগাং রেল ষ্টেশনে ট্রেন ছাড়ার আগে জানালার পাশে বসে মোবাইল ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা দেখার সাথে সাথে ঝাপটা মেরে নিয়ে পালিয়ে যায়।ট্রেন ছাড়ার সাথে সাথে ওত পেতে থাকা ঝাপ্টাবাজ ছো-মেরে ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় কাঁচের জানালা নামিয়ে দেয়াই ভালো।
এছাড়াও রিক্সা করে নিউ মার্কেট চত্তর পার হওয়ার সময় জ্যামে হঠাৎ করে নেশাখোরের মতো একটা লোক এসে বিশেষকরে তরুন-তরূনীদেরকে টাকা দে বলেই তার হাতে থাকা একটা পলিথিনের ভেতর থেকে ময়লা (মানুষের পায়খানা) বের করে এমন ভাব করবে, যেন এখনি গায়ে লাগিয়ে দিবে..!! এখানে গায়ে ময়লা লাগিয়ে মোবাইল ছিনতাই এর ঘটনা অহরহ হচ্ছে। জলসা মার্কেটের পাশ দিয়ে ফুটপাতে কিছু ঘড়ি-ওলা আছে যাদের সাথে কথা বলার সময় অপরিচিত কেও একজন ধাক্কা দিয়ে মানিব্যাগ ছিনতাই করে থাকে। তারসাথে পকেট কেটে মানিব্যাগ, মোবাই্ল,টাকা ছিনতাই করার মতো ঘটনা ঘঠছে।
এই পরিস্তিতি নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় কলেজ ছুটি হওয়ার পর বাসে করে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার সময় বাসে থাকা সিটি কলেজের ছাত্রী সামিয়া জাহান বৃষ্টির সাথে কথা বললে তিনি বলেন; আমরা প্রতিনিয়ত খুব ভয়ে থাকি,কেননা কখন যে ছিনতাইকারীর খপরে পড়ে আমাদের সর্বহারা হতে হয়।
সামিয়া জাহান বৃষ্টিকে এই ব্যাপারে পুলিশ সাহায্য করে কিনা জানতে চাইলে সামিয়া বলেন আরে ভাই কাকে কি বলব, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে যায় তখন কি আর কিছু করার থাকে। সুতরাং পুলিশ এই ছিনতাইকারীর সাথে সংঘবদ্ধ।পুলিশের কাজ হল নগরবাসীকে নিরাপত্তা দেওয়া,আর সেই পুলিশ সদস্যরা যদি ছিনতাইকারীর সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে।
এই বিষয়ে কোতায়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত এই অপরাধ চক্রকে আটক করার জন্য ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।ইয এই অপরাধ চক্রের অনেক সদস্যকে আমরা গেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন সাধারনত এই অপরাধ চক্রের সাথে ছোট ছোট ছেলেরা সম্পৃক্ত। তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাপোযুক্ত শাস্তি দিতে পারি না। আমাদের এই অভিযান প্রতিনিয়ত চলবে বলে তিনি জানান।


