পুরান ঢাকার ইসলামপুরের একটি মসজিদের ভেতর বিল্লাল হোসেন (৫৭) নামে এক মুয়াজ্জিনকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোরে মসজিদের দোতলা ও তিনতলার মাঝের সিঁড়ি থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত বিল্লাল গত বিশ বছর ধরে ওই এলাকার ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মওদুদ আহমেদ বলেন, “তার বুকে তিনটি এবং পিঠ ও হাতে একটি করে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফজরের নামাজের সময় ইমাম নামাজ পড়াতে এসে সিঁড়িতে লাশ দেখে থানায় খবর দেন।”
মসজিদের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন মুয়াজ্জিন বিল্লাল। তার ঘর তালা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পরিদর্শক মওদুদ বলেন, “বিল্লালের লাশ শক্ত হয়ে গেছে। মধ্য রাতে ঘরে ঢোকার আগেই তাকে খুন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। বিল্লালের লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে ঝব্বু খানম মসজিদ। মসজিদে ঢোকার জন্য পূর্বপাশে একটি কলাপসিবল গেইট রয়েছে।
ভবনের নীচতলায় ১৭টি এবং একতলায় ১৩টি দোকান ও গুদাম রয়েছে। এটি ঝব্বু খানম মার্কেট নামেই পরিচিত।
মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল আউয়াল জানান, তিনিসহ মোট ১০ জন মার্কেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন।
তিনি বলেন, “মার্কেট সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আমরা শুধু একতলা ও গ্রাউন্ডের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কাজ করি। মসজিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই।”
রোববার রাত ১০টার পর তিনি ও অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা নীচতলায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে আউয়াল জানান।
কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই আজিজ আহমেদ বলেন, “হত্যাকাণ্ডটি সিঁড়িতেই হয়েছে, কারণ ঘটনাস্থলে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। তৃতীয় তলার পূর্বপাশের একটি কক্ষে একাই থাকতেন বিল্লাল আর পশ্চিমপাশের আরেকটি কক্ষে থাকতেন মোশারফ হোসেন নামে জুনিয়র আরেকজন মুয়াজ্জিন। মোশারফ তার কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে হৈ চৈ শুনে তার ঘুম ভাঙে।”
মসজিদের ইমামসহ সবাইকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ওসি আবুল হাসান জানিয়েছেন।


