নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত এক পরিবারে পাঁচ খুনের ঘটনার মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে একমাত্র আসামি করা হয়েছে খুনের ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তান হারানো শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে।
ঘটনার ৮০ দিন পর বুধবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের নারায়ণগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম শহীদুল ইসলামের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বুধবার পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন তার কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা জানান।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে একজনই সংশ্লিষ্ট। এই হত্যাকাণ্ড যে সংঘটিত করেছে তাকে (ভাগ্নে মাহফুজ) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি পুলিশ সুপার হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তদন্তের জন্য ক্রসচেক করা এমনভাবে করেছি, যাতে কোনো প্রকারের মিথ্যার বা লুকানোর আশ্রয় নেওয়ার কোনো পথ না থাকে।
“প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছেও মনে হয়েছিল একজনের পক্ষে পাঁচ জনকে খুন করা কি সম্ভব? কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা দেখলাম, অপরাধী তীক্ষ্ণ বুদ্ধি প্রয়োগ করে একে একে পাঁচ জনকে হত্যা করেছে। এমনকি চাবিও তার দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
১০ পাতার অভিযোগপত্র থাকলেও কেস ডকেট মোট ২০০ পৃষ্ঠার বলেও তিনি জানান।
এ সময় মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬ জানুয়ারি শহরের দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় শফিকুলের বাড়িতে দুই শিশুসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। পরদিনই মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওইদিন নিহতরা হলেন শফিকুলের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪০), ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), শ্যালক মোশাররফ হোসেন মোরশেদ (২৫) ও ছোট ভাই শরীফের স্ত্রী লামিয়া (২৫)।


