যৌন-সংসর্গের জন্য অর্থ প্রদান অর্থাৎ যৌনতা কেনাকে অবৈধ ঘোষণা করে ফ্রান্সে আইন পাস করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা। বুধবার পাস হওয়া ওই আইনে যৌন-সংসর্গ কেনার দায়ে চার হাজার ২৭৪ ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বলে বিবিসির খবর।
আইনে যৌনপেশায় নিয়োজিতরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সে বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্লাসেও অভিযুক্তদের উপস্থিত থাকার বিধান রাখা হয়েছে।
ইস্যুটি নিয়ে ফরাসি পার্লামেন্টের দুটি কক্ষের মতৈক্য না হওয়ার কারণে বিতর্কিত এই আইনটি পাশ হতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগলো।
পার্লামেন্টে চূড়ান্ত বিতর্ক চলার সময় প্রস্তাবিত আইনটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন কিছু যৌনকর্মী।
পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে প্রায় ৬০ জনের মতো যৌনকর্মী জড়ো হয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছিলেন “আমাকে তোমার মুক্ত করতে হবে না, আমি নিজেই নিজের ব্যবস্থা করতে পারব।”
‘স্ট্রাস সেক্স ওয়ার্কার্স’ ইউনিয়নের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই আইনের কারণে ফ্রান্সের ৩০ থেকে ৪০ হাজার যৌনকর্মীর জীবন কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে এই আইনের সমর্থকেরা বলছেন, আইনটি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করবে।
এই আইনের কারণে বিদেশি যৌনকর্মীদের ফ্রান্সে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়া সহজ হবে, যদি তারা যৌনপেশার বাইরে অন্য কোনো কাজ খুঁজে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
সমাজতান্ত্রিক দলের পার্লামেন্ট সদস্য মায়ুদ অলিভার পার্লামেন্টে আইনটি প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা জানি এখানকার ৮৫ শতাংশ যৌনকর্মী পাচারের শিকার হয়ে এখানে এসেছেন। এই আইন তাদের পরিচয়পত্র দেবে, তাদের সহায়তা করবে।”
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ৬৪ ভোট ও বিপক্ষে ১২ ভোট পড়ে। ১১ জন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
নতুন এই আইনটি ২০০৩ সালে একই ইস্যুতে পাশ করা আরেকটি আইনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
ফরাসি পার্লামেন্টের ডানপন্থি নিয়ন্ত্রিত সিনেট যৌনপেশা নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে আসছিল বলে জানা গেছে।
নয়া আইনে বলা হয়েছে, প্রথমবার আইন অমান্যকারীর ১,৫০০ ইউরো জরিমানা হবে। পুনর্বার আইন অমান্য করলে এই জরিমানা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
সুইডেন প্রথমবারের মতো যৌনকর্মীদের পরিবর্তে যৌনতা কেনাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় আইন পাস করে।
সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনটি পাস হওয়ার পর স্টকহোমের যৌনকর্মীদের আনা-গোনার স্থানগুলোতে নারীদের আসা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।


