হ্যাকাররা সুইফট কোড চুরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার লোপাটের কোনো দায় নিতে রাজি নয় বৈশ্বিক আর্থিক লেদেনদেন বিষয়ক নেটওয়ার্ক ‘সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যানন্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট)। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি যাওয়ায় ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই। এক্ষেত্রে তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থারও কোনো ত্রুটি ছিল না। নিজেদের লেনদেনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সদস্য ব্যাংকগুলোই দায়ী।
তারা বলছে, ‘সুইফট এবং ব্যাংকের দায়িত্বের পার্থক্যটা আমাদের বোঝা দরকার। নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ভুল কিছু ঘটছে কি না- তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোরই।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সুইফটের এশিয়া প্যাসিফিক, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা বিষয়ক নির্বাহী প্রধান অ্যালেন রায়েস ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত যে আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল না। আমরা আরো নিশ্চিত যে আমাদের নেটওয়ার্ক নিশ্ছিদ্র ছিল।’
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) চুরির বিষয়টি তদন্তে করতে গিয়ে দেখা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে একটি সুইফট কোড পাঠানো হয়। অজ্ঞাত পরিচয় সাইবার অপরাধীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার ব্যবস্থা হ্যাক করে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে।
এর বেশিরভাগই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক রুখে দিতে সক্ষম হয়। তবে সুইফট ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রিজাল ব্যাংকের পাঁচটি ভুয়া হিসাবে প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। আর ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর হয় শ্রীলংকার শালিকা ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও’র নামে।
ফিলিপাইনে বিষয়টি তদন্ত করছে তাদের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল এবং সিনেট কমিটি।
রায়েস জানান, লেনদেনের ব্যাপারে মক্কেলদের অবহিত করা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের জানানোর কাজ সুইফটের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, ‘নিরপত্তার ব্যাপারে প্রত্যেককে অবহিত করা হয়েছে কি না- তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। ঘটনাটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। ইতিমধ্যে শ্রীলংকা থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার এবং ফিলিপাইনে যাওয়ার টাকার কিছু অংশ ফেরত আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় অবশ্য শুরুতে হ্যাকিংয়ে কথা স্বীকার করলেও এর জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকেই দুষেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংক বলেছে, এখানে সব নিয়ম মেনেই অর্থ স্থানান্তর ঘটেছে তাদের কিছুই করার ছিল না। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর সন্দেহ ঘণীভূত হয়। ইতিমধ্যে দুই ডেপুটি গভর্নরের চাকরি গেছে, নজরদারিতে আছে আরো অনেকে। বিষয়টি এখন সিআইডির তদন্তাধীন।


