গাইবান্ধা জেলাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যার কাছ থেকে সাধারণ রোগব্যধি থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগের চিকিৎসা বিনা পয়সায় পেয়ে আসছেন তিনি সবার প্রিয় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার নুরুল ইসলাম সরকার। যদিও এ নামে তাকে অধিকাংশ মানুষই চেনেন না। সকলেই তাকে চেনেন পাঁচপাই ডাক্তার হিসেবে।
শহরের ব্রিজ রোডস্থ পোস্ট অফিস সংলগ্ন পুরাতন বাজারের প্রবেশ মুখে ছোট্ট একটি ভাঙা চোরা ঘরে বসে ১৯৬৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই মানুষটি অসংখ্য রোগীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। চিকিৎসা জীবনের শুরু থেকে রোগীদের কাছ থেকে নামমাত্র পাঁচ পয়সা করে ভিজিট নিতেন। ফলে অল্পদিনেই সকলের কাছে তিনি পাঁচপাই ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি পান। তবে রোগীরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তাদের কাছে শুধু ওষুধের টাকা নেয়া হয়। ভিজিট হিসেবে ডাক্তার সাহেব কোন টাকা নেন না।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সাধারণ রোগব্যধি ছাড়াও কিডনিজনিত সমস্যা, পিত্তথলিতে পাথর, শ্বেতি রোগ, শিশুদের হাত-পা বাঁকা হওয়া এবং হাত-পায়ে একেবারেই জোর না পাওয়া এরকম অনেক জটিল রোগীদের সুস্থ করেছেন প্রিয় মানুষ পাঁচপাই ডাক্তার। এরকম জটিল রোগ সারানোর ফলে গাইবান্ধা জেলা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ অসংখ্য জেলায় দ্রুত তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন জেলার মানুষ গাইবান্ধায় পাঁচপাই ডাক্তারের চেম্বারে ভিড় করেন।
চেম্বার বলতে লিজ নেয়া ২ শতক জমিতে ভাঙ্গাচোরা একটি ঘর, দু’চারটি ছড়ানো ছিটানো টেবিল আর বেঞ্চ।
পাঁচপাই ডাক্তার নামটা এতই পরিচিত হয়েছে যে, পাঁচপাই ডাক্তার বললেই সোজা পুরাতন বাজারের ওই নুরুল ইসলাম ডাক্তারকে যে কেউ দেখিয়ে দিবে।
ডাক্তার নুরুল ইসলাম তার চিকিৎসার সেই পুরাতন সুনাম এখনো ধরে রেখেছেন। তার রোগীর সংখ্যা দেখে গাইবান্ধার অন্যান্য ডাক্তাররা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। কিন্তু দিন দিন রোগী বাড়ছেই।
সময়ের পরিবর্তনে এখন তার সেবা মেলে ২ থেকে ১০ টাকার মধ্যে।
লাঠিতে ভর করে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে মাইল খানেক পথ পায়ে হেঁটে ‘পাঁচপাই’ ডাক্তার হিসেবে পরিচিত নুরুল ইসলাম সরকার হাজির হন শহরের পুরাতন বাজারে জরাজীর্ণ চেম্বারে।
ঘড়ির কাটা ন’টা পার হতে না হতেই চিকিৎসা নিতে আসা শত শত মানুষের ভিড় জমে যায় হোমিওপ্যাথির এই চিকিৎসককে ঘিরে। রোগীর মুখ থেকে রোগের লক্ষণ শুনে এক টুকরো কাগজে লিখে দেন ওষুধ। এক সময় পাঁচ পয়সা নিলেও এখন তার ওষুধের দাম পড়ে মাত্র কয়েক টাকা।
প্রতিদিন গাইবান্ধাসহ পার্শবর্তী জেলার আড়াইশ থেকে ৩শ’ রোগী আসেন এই চিকিৎসকের কাছে। মানব সেবায় নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি এখন অনেক হোমিও চিকিৎসকের আদর্শ।
মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চান মহান এই সমাজসেবী নুরুল ইসলাম সরকার।
১৯২৯ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৪৪ সালে হোমিও চিকিৎসা শুরু করেন তিনি।


