সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মায়ের অসুস্থতার জন্য উচ্চ আদালত থেকে ১৫ দিনের জামিনে ছিলেন আরিফুল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে আজ সোমবার সকালে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হন তিনি। এ সময় তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কিশোর কুমার কর জানান, জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আরিফুলকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হত্যা মামলার বিচার চলছে।
কিবরিয়া হত্যা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্পূরক অভিযোগপত্র ২০১৪ সালের বছরের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের আদালতে দাখিল করলে আরিফুল হকসহ নতুন করে নয়জন অভিযুক্ত হন। ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল হবিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরের বছর ৭ জানুয়ারি আরিফুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর মা আমেনা খাতুন। একমাত্র ছেলে আরিফুলকে এক নজর দেখার আকুতি জানাচ্ছিলেন তিনি। মা-ছেলের সাক্ষাতের জন্য উচ্চ আদালতে আরিফুলের জামিন প্রার্থনা করা হলে গত ২২ মার্চ হত্যা মামলায় ও ২৭ মার্চ বিস্ফোরক মামলায় ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর হয়। ২৯ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সিলেট এসে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখে নিজে অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।


