বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা (র্যাংক) আরও একধাপ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা মহাপরিচালক পদকে মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অতিরিক্ত মহাপরিচালককে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেল করাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের র্যাংক আরও একধাপ উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি সীমান্তের দুর্গম এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য তিনটি হেলিকপ্টার ও চারটি হেলিপ্যাড নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে কমান্ডার্স সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিজিবির সব অতিরিক্ত মহাপরিচালক, ৩০টি ইউনিটের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তৃতা শেষে বিজিবি কমান্ডারের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজিবির যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধানের র্যাংক ব্যাচ তিন তারকা সংবলিত। কিন্তু বিজিবি প্রধানের দুই তারকা সংবলিত। এতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এ কমান্ডার বিজিবি মহাপরিচালকের পদবি মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদবি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেলে উন্নীত করার দাবি জানান। এ সময় তিনি সম্প্রতি বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদের র্যাংক ব্যাচ উন্নীত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবিতে র্যাংক ব্যাজ উন্নয়নের দাবি সরকার আমলে নেবে।
চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাবীবুল করিম পার্বত্য অঞ্চলে চলাচলের জন্য কয়েকটি হেলিকপ্টার ও চারটি হ্যালিপ্যাড নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ৮১০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এ এলাকার মধ্যে ৬৭টি ক্যাম্প আছে। কোনো কোনো ক্যাম্পে যেতে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে অনেক সময় সৈনিকরা চিকিৎসার অভাবে মারাও যান।
এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক ওই কমান্ডারকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের দুই জওয়ান মারা গেছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে হেলিকপ্টার যায়নি। কিন্তু আমাদের নিজস্ব হেলিকপ্টার থাকলে সৈনিকদের জীবন বাঁচানোর স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে হলেও ওই সৈনিকদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হতো। জবাবে আসাদুজ্জামান খান বিজিবিকে ৪টি হেলিকপ্টার দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোয় পাঠানো হয়েছে। আগামী সচিব কমিটির বৈঠকে এটি তোলা হবে যাতে এটি পাস হয়ে যায়।
প্রশ্নপর্বে বিজিবি সদর দফতরের উপমহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল কাজী অনিরুদ্ধ বলেন, আগে বিজিবির সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ভাতা দেয়া হতো। ফলে সেনাবাহিনীর অফিসাররা এ বাহিনীতে আসতে আগ্রহ দেখাত। ২০০৭ সালে এটি বন্ধ হওয়ার ফলে সেনা কর্মকর্তারা বিজিবিতে আসতে তেমন আগ্রহ দেখান না। তাই ক্ষতিপূরণ ভাতা দাবি করছি। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেতন বেড়েছে, তাই ওইসব ভাতা রহিত করা হয়েছে। তবে ভাতার ব্যাপারে আবারও উদ্যোগ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বিজিবির কারণে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিজিবির ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা সহজ হয়েছে। ড. মোজাম্মেল হক সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবিকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।


