বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কৃষকদের বিনামূল্যে সার-বীজ-সেচের টাকা দিচ্ছে সরকার

krishi----আউশ ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেচ খরচ বাবদ বিঘাপ্রতি ৪০০ টাকাও দেওয়া হবে। রোববার এসব উপকরণ ও টাকা বিতরণ শুরু হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এরই মধ্যে তিন পার্বত্য জেলাসহ ৫৪ জেলার দুই লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি তালিকা করেছে। এক বিঘা জমির জন্য পাঁচ কেজি আউশ ধানের বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমপি সার এবং সেচ বাবদ ৪০০ টাকা দেওয়া হবে।

গত ২৭ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয় ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার এ প্রণোদনা ঘোষণা করে। সেচ খরচের টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। একজন কৃষক বিঘাপ্রতি মোট ১২ হাজার ৩২ টাকার সহায়তা পাবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বোরো ধানের চাষে বেশি পানি, সার ও বীজ লাগে। তাই আউশ ধানের চাষ বেশি করে করার জন্য সরকার কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে। আগে পাহাড়ি এলাকার চাষিদের এ জন্য কোনো সহায়তা দেওয়া হতো না। এবার তিন পার্বত্য জেলার জুমচাষিদেরও আউশ-প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। জুমচাষিরা বিনা মূল্যে নেরিকা প্রজাতির ধানবীজ ও সার পাবে। এ জাতের ধানচাষ পরীক্ষামূলক, সফল হলে এর চাষ অব্যাহত রাখা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অন্যান্য অঞ্চলেও নেরিকা জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রামে আউশ এলাকা সম্প্রসারণ ও নেরিকা জাতের ধান চাষের জন্য দুই হাজার ১১৫ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় দুই লাখ কৃষককে প্রণোদনার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে টাকা ছাড় করেছে। কাল সার, বীজ ও সেচের টাকার বিতরণ শুরু হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব জেলায় উপকরণ ও টাকা পৌঁছে গেছে।

প্রণোদনা নীতিমালা অনুযায়ী সার ও বীজ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিতে হবে। প্রতি পাঁচজন কৃষকের একটি গ্রুপকে সার-বীজ দেওয়া হবে, যাতে বস্তা ভাঙতে না হয়।

গত ২৭ মার্চ আউশ ধান চাষের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকার প্রণোদনার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, যেসব জেলায় আউশ উত্পাদন হয় সেসব জেলা এ প্রণোদনার আওতায় আসবে। প্রয়োজনীয় বীজ ও সার বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ৭০ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন উফশী এবং ১০ হাজার ৩৩ মেট্রিক টন নেরিকা ধান উত্পাদিত হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) চৈতন্য কুমার দাস বলেন, আউশ ধান চাষে পানি খরচ কম হয় বিধায় সরকার এর চাষে কৃষকদের উৎসাহ জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে নেরিকা জাতের ধানের উত্পাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

প্রকৃত কৃষক যাতে প্রণোদনাবঞ্চিত না হয় সে জন্য ইউনিয়ন কৃষি পুনর্বাসন কমিটি পুনর্গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত এ কমিটি সহায়তা দেওয়ার সব কাজ করবে। এ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনার কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই সাময়িকভাবে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *