ভারতের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দুদিনের সফরে রোববার বিকেলে ঢাকায় এসেছেন। তাঁর সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি ও গ্যাস খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। আজ সোমবার ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে এ সব আলোচনা হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকালে শিলিগুড়ির নূমালিগড়ে অবস্থিত ইন্ডিয়ান অয়েল লিমিটেডের (আইওএল) শোধনাগার থেকে জ্বালানি তেল (মূলত ডিজেল) আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
এ ছাড়া আমদানি করা জ্বালানি তেলের দাম, ভারত থেকে এলপি গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মাসের (মার্চ) শেষার্ধে ভারতের শিলিগুড়ির নূমালিগড় শোধনাগার থেকে পার্বতীপুরে ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে। ‘গুডউইল গেস্চার’ হিসেবে তখন দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করে ভারত। কিন্তু আমদানি করা ডিজেলের দাম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। ভারত যে দাম চাইছে, তা বেশি বলে মনে করছে বাংলাদেশ। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া আপাতত ট্রেনযোগে এই তেল আমদানি করা হলেও ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আবাসিক ও ক্ষেত্রবিশেষে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য পাইপ লাইনের গ্যাসের পরিবর্তে সিলিন্ডারজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপি গ্যাস) ব্যবহার বাড়াতে চায়। এই গ্যাস প্রধানত আমদানিনির্ভর। ভারতেও এলপি গ্যাসের বহুল ব্যবহার রয়েছে। তাই উত্তরাঞ্চলে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে এলপি গ্যাস আনা যায় কি না সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ করতে পারে কি না, পারলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে সে বিষয়েও বাংলাদেশ আলোচনায় আগ্রহী।
মঙ্গলবার ভারতের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাবেন। সেখানে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার-ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের জন্য নিযুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এই পরামর্শক নিযুক্ত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইআইএল) নামের একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান।


