চাঁদা না পেয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের উপ-পরিচালক আব্দুস শুকুরকে (৬২) পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। আব্দুস শুকুর তিন মাস আগে থেকে অবসরোত্তর ছুটি (এলপিআর) ভোগ করছিলেন।
গত ১৭ এপ্রিল সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর আহত ওই কর্মকর্তা মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতের বাবার নাম মৃত ইজহার মোল্লা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের উত্তর মতলবে। ঢাকায় তিনি মুগদা থানাধীন ২৯২/ দক্ষিণ মান্ডায় বসবাস করতেন। তার এক ছেলে এক মেয়ে আছে।
নিহতের ভায়রা আব্দুস সালাম জানান, গত ১৭ এপ্রিল সকালে নিজের বাড়ির নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন আব্দুস শুকুর। এসময় স্থানীয় সন্ত্রাসী মন্টুসহ তিন থেকে চার জন তাদের পূর্ব দাবিকৃত ২৫ লাখ টাকা চাঁদা চাইতে যান। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আব্দুস শুকুরের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে এবং মাথায় আঘাত করে। এতে আব্দুস শুকুর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সেখান থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মুগদা থানার এসআই মাইনুল হক জানান, আব্দুস শুকুরকে মারধরের ঘটনায় ১৭ এপিলই থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পর আসামি ধরার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, আব্দুস শুকুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে আজ দুপুরে তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, রাজধানীর খিলগাঁও থানার পূর্ব গোড়ান এলাকায় জামাল হোসেন (৩৮) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার অভিযোগ করছে নিহতের পরিবার। জামালের বাবার নাম আব্দুস সাত্তার মোল্লা। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই মনোয়ার হোসেন জানান, পূর্ব গোড়ানের ২৪৪ নম্বর বাড়িতে আড়াই বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জামাল। আজ সকালে ওই বাসার সিঁড়িঘরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির মালিক আবুল কালামসহ আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় খিদমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টা দিকে জামালের মৃত্যু হয়।
খিলগাঁও থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য খিদমা হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে কে বা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।


