রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শোক-মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট ও সমাবেশ করেছে ইংরেজি বিভাগ এবং রাবি শিক্ষক সমিতি। রোববার বেলা ১১টার দিকে পৃথক এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের করে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে ১০ মিনিটি অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। পরে সিনেট ভবনের সামনে এসে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় সমাবেশে বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এফ এম মাসউদ আখতার, অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ্, অধ্যাপক মো. জহুরুল ইসলাম।
সমাবেশে অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাই। আমাদের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আজ থেকে তিন দিন বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সিনেট ভবনের সামনে সকাল ১০টা থেকে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার বিভাগে শোকসভার আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। গত ১২ বছরে রাবিতে ৪ জন শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের এখনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আমরা আর মিথ্যা আশ্বাসে বসে থাকতে চাই না। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সমাবেশ শেষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে পাঁচ মিনিট প্রতীকী অবস্থান করে। এ সময় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাবি শিক্ষক সমিতির ডাকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কিছু কিছু বিভাগের অফিসকক্ষ খোলা থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততম জায়গা টুকিটাকি চত্বর ফাঁকা। রাস্তায় নেই কোনো রিকশা। বিভিন্ন বিভাগে নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরীক্ষা কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মইন জোহান বলেন, রবিবার আমাদের ইনকোর্স পরীক্ষা ছিল। পরে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচি অনুযায়ী স্থগিত করা হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, আমরা আমাদের সহকর্মী রেজাউল স্যারের হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া হিসেবে সোমবার পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সোমবার পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে রাবি শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তমাশ্রী দাস বলেন, ‘এমন মানুষকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বারবার শিক্ষক কিংবা সংস্কৃতিকর্মী, মুক্ত চিন্তকদের এভাবে স্তব্ধ করে দেবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. অসিউজ্জামান বলেন, আমরা প্রতিদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবো। আজও (রোববার) আমাদের প্রতিবাদ র্যালি ও সমাবেশ হয়েছে। আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিক্ষোভ মিছিল, বিকেল ৫টায় নগরীর সাহেব বাজারের জিরো পয়েন্টে একটি সমাবেশের আয়োজন করে রাবি শিক্ষক সমিতি। এই কর্মসূচি পালন শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু।


