মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইতিহাস রচনার খুব কাছাকাছি হিলারি, ট্রাম্পের অপ্রতিরোধ্য বিজয়

11649_intইতিহাস রচনার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন লড়াইয়ের প্রাইমারি ভোটে ৫টি রাজ্যের মধ্যে তিনি বিজয় অর্জন করেছেন ৪টিতে। একটিতে হেরেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে। এর ফলে তার সংগ্রহে এখন ২১৫৯টি ডেলিগেট। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সের সংগ্রহ ১৩৭০ টি ডেলিগেট। ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পেতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৩৮৩ টি ডেলিগেট পেতে হবে। সে হিসাবে হিলারি ক্লিনটনের আর প্রয়োজন ২২৪টি ডেলিগেট। এখনও যে রাজ্যগুলোতে প্রাইমারি নির্বাচন বাকি সেখানে দলের রয়েছে ১২০৬টি ডেলিগেট। এতগুলো ডেলিগেট থেকে মাত্র ২২৪টি ডেলিগেট অর্জন তার জন্য এখন সময়ের ব্যাপার।

যদি তিনি এই সংখ্যক ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে তিনিই হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম নারী প্রার্থী। তাই তার মুখে হাসির ফোয়ারা। তিনি বিজয়ের পর পেনসিলভ্যানিয়াতে দলীয় প্রধান কার্যালয়ে যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন ‘হিলারি  হিলারি’ সেøাগানে বার বার তার কথা হারিয়ে যাচ্ছিল। হিলারি মুখে এ সময় হাসির ঝিলিক লেগেই ছিল।

অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তার অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছেন। তিনি গতকালের ৫টি রাজ্যের মধ্যে ৫টিতেই বিজয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। এর ফলে তার সংগ্রহে এখন ৯৫০টি ডেলিগেট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজ ৫৬০ ও জন কাসিচ সংগ্রহ করেছেন ১৫৩টি ডেলিগেট। দলীয় মনোনয়ন পেতে রিপাবলিকান দলের একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ১২৩৭টি ডেলিগেট পেতে হবে।

এ হিসাবে ফ্রন্টরানার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও পেতে হবে ২৮৭টি ডেলিগেট। এখন যে রাজ্যগুলোতে প্রাইমারি নির্বাচন বাকি আছে সেখানে অবশিষ্ট আছে ৫০২টি ডেলিগেট। ফলে বলা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ২৮৭টি ডেলিগেট অনায়াসেই অর্জন করতে সক্ষম হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাধ সেধেছেন টেড ক্রুজ ও জন কাসিচ। তারা ট্রাম্প ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাদের সেই ঐক্যের ফলে যদি ট্রাম্প আরও ২৮৭টি ডেলিগেট সংগ্রহে ব্যর্থ হন তাহলে জুলাইয়ে দলীয় কনভেনশনে ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের ৫টি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো কানেকটিকাট, দেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভ্যানিয়া ও রোড আইল্যান্ড। এর মধ্যে ডেমোক্রেট দল থেকে কানেকটিকাট, দেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড ও পেনসিলভ্যানিয়াতে বিজয়ী হন হিলারি। শুধু রোড আইল্যান্ডে বিজয়ী হয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স।

তবে এখনই লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, প্রাইমারি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। ওদিকে বড় ধরনের বিজয় পাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘প্রিজামটিভ নমিনি’ বা গৃহীত মনোনীত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ৫টির মধ্যে ৪টি রাজ্যে বিজয় অর্জন করার পর ফিলাডেলফিয়া কনভেনশন সেন্টারে উচ্ছ্বসিত হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনমানের উন্নতি করতে চান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের নাগরিকদের সুস্থ জীবন দেখতে চাই। জাতিকে মহৎ হিসেবে দেখতে চাই।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *