এখনও জ্বলছে সুন্দরবন। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের কাজ শুরু করেছে দমকল বাহিনী।
গতকাল বুধবার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাধীন পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনে আগুন লাগে।
খবর পেয়ে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত ২টা পর্যন্ত আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।
কিন্তু বৃহস্পতিবারও বন থেকে ধোয়া উড়তে দেখা গেছে। ফলে মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকালে সেখানে গিয়ে পানি ছিটানোর কাজ শুরু করেছে।
পূর্ব সুন্দরবনে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে এক মাসের মধ্যে চারবার আগুন লাগার বিষয়ে তিনি সঠিক কোনো কারণ জানাতে পারেননি।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে যে স্থানে আগুন লেগেছে, সেখানে গাছ ও ছন জাতীয় উদ্ভিদ ছাড়া সুন্দরী বা অন্য কোনো উদ্ভিদ নেই। সেজন্য ক্ষতির আংশকা কম করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগে যে তিনবার আগুন লেগেছে, তাতে প্রায় এক একর বনভুমি পুড়ে গেছে।
এদিকে, নুতন করে আগুন লাগার কারণ উদঘাটনে চাঁদপাই রেঞ্জ সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান।
কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফওর কার্যালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ধানসাগর স্টেশনের নাংলী এলাকায় আগুন লাগে। সে ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাংলী ক্যাম্পের ওসি নাসির উদ্দিন, বোটম্যান মোবারেক হোসেন ও পলাশ মজুমদারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় প্রথমে সুন্দরবনে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বনে আগুন লাগে।
এরপর চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবনের ওই এলাকায় আগুন লাগে।
সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল সোমবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাধীন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী এলাকার আব্দুল্লার ছিলার শেষ প্রান্তে ‘ছলে বনে’ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
এর আগে কয়েকবার বনে আগুন লাগার ঘটনাকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাদের হেনস্থা করতেই পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনের ওই এলাকায় আগুন দেয়া হয়েছে।


