পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর দক্ষিণ চর গ্রামে আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেম্বর প্রার্থী সেলিম ম-ল এবং বিএনপি সমর্থিত মেম্বর প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্নার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী মারা গেছেন। তার নাম জামেনা খাতুন (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের দারোগ ম-লের স্ত্রী এবং মেম্বর প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্নার চাচী শাশুড়ি। এসময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা হলেন- ওয়াজেদ আলী (৪৫), খালেক সর্দার (৫০), জালাল (২২), শিলা (২০), গোপাল (৩২), মহিদুল (৩৪), সাইদুল ম-ল (২০), আলাল সর্দার (৪৫), আবদুল্লাহ আল মামুন (৪০)। এদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকালে আহম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্না তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন শেষ করে রাতে আহম্মদপুর দক্ষিণ চর গ্রামে তার বাড়িতে নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশ চলাকালে রাত সাড়ে ৭টার দিকে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া ও মেম্বর প্রার্থী সেলিমের ১৫-২০ জন কর্মী সমর্থক ৮-১০টি মোটরসাইকেলযোগে এসে সমাবেশের কর্মী সমর্থকদের ওপর লাঠিশোঠা দিয়ে হামলা করে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এই সংঘর্ষের দৃশ্য দেখে জামেনা খাতুন (৫০) মারা যান। আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসময় হামলাকারীরা ৭-৮টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।
মেম্বার প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জিন্না জানান, তিনি ওই চেয়াম্যানের পক্ষে কাজ না করায় তার সমাবেশের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, মেম্বর প্রার্থীর লোকজনই হামলা চালিয়ে তার কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আহত করেছেন।
বিএনপির মেম্বর প্রার্থী জিন্না অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী সমাবেশে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া ও সেলিম মেম্বর এর সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে এবং এই হামলার দৃশ্য দেখে তার চাচী শাশুড়ি মারা গেছেন।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএম তাজুল হুদা জানান, জিন্না ও সেলিম মেম্বারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ওসি দাবি করেন, সংঘর্ষের দৃশ্য দেখে নয়, জামেনা খাতুন ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে নিজ বাড়িতে হার্ট এটাকে মারা গেছেন। এর প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে।
এদিকে এ সংঘর্ষের জের ধরে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


