রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ সোমবার রাবি শাখা ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, কিছুদিন ধরে মন্নুজান হলে বেশ কয়েকজন ছাত্রী ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে আসছিলেন। তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে মুন্নুজান হলে আম খাওয়া নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোহাগী ও দেবলিনা নামে দুজন ছাত্রী আহত হন।
সেরাতে হলের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ নেত্রীদের মারধরে আহত শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী ও ২০৬ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী।
মারধর করার পরে হল শাখার ছাত্রলীগের স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া আক্তার সুরভী ও তাদের অনুসারীরা ওই কক্ষে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। ভাঙচুর করার সময় সোহাগী ও দেবলিনা নামে দু’জন ছাত্রী আহত হন। তাদের রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থীরা গাছ থেকে আম পেড়ে চেঁচামেচি করে মাঠের মধ্যে আম খাচ্ছিল। রুবিনা আক্তারের পরীক্ষা থাকায় নিচে এসে তাদের অন্য জায়গায় যেতে বলে। ফলে আম খাওয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হল শাখা ছাত্রলীগ নেত্রীর কাছে গেলে সে এসে তাকে সরি বলতে বলে।
রুবিনা সরি না বলায় হল প্রভোস্ট, প্রক্টর ও আবাসিক শিক্ষক সেখানে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে ও তার রুমের অন্য মেয়েকে আটকে রেখে ছাত্রলীগের নেত্রীরা। এ সময় তার রুমে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সরকার ফারহানা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগ নেত্রী সরকার ফারহানা আখতার সুমি বলেন, ‘রাতে আম খাওয়া নিয়ে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে হলে একটু ঝামেলা হয়েছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টা আমাকে জানালে সেখানে আমি উপস্থিত হয়ে রুবিনাকে সরি বলতে বলি। কিন্তু সে সরি না বলে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এতে শিক্ষার্থীরা তাকে রুমে আটকিয়ে রুমের জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় তার রুমের মেয়েরা ভেতর থেকে কাঁচ দিয়ে ঢিল ছুড়লে বাইরের দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।


