বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হেফাজতের তাণ্ডব: তিন বছরেও শেষ হয়নি ৫০ মামলার তদন্ত

hefajot21462419432২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে হতাহতের ঘটনায় ৫৩টি মামলা হলেও তিন বছরে মাত্র তিনটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখনো ৫০টি মামলা তদন্তের নামে আটকে রয়েছে।

১৩ দফা দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হেফাজত ইসলাম। এ সময় তারা ওই এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে অনেক হতাহতের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‍অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে এ ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু তিন বছরে অধিকাংশ মামলা তদন্তের নামে আটকে আছে।

এসব মামলার মধ্যে ১৫টির তদন্তভার রয়েছে মহনগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওপর।

ডিবি সূত্র জানায়, মামলার অধিকাংশ আসামিই চিহ্নিত হয়েছে। শুরুর দিকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত চললেও পরে তা ঝিমিয়ে পড়ে। আর এই সময়ের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ঠেকানো এবং ঘটনাগুলোর তদন্ত করতেই পুলিশকে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। ঘটনার পর হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্তত ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গত তিন বছরে গ্রেপ্তার প্রায় সবাই জামিনে রয়েছে। এ ঘটনায় ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে রমনার একটি ও কলাবাগান থানার দুটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

রমনা থানার মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতায় গড়ে ওঠে `হেফাজতে ইসলাম`। এরপরই তারা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ১৩ দফা দাবিতে মাঠে নামে। ওই বছরের ৬ এপ্রিল ঢাকামুখী লংমার্চ কর্মসূচি দিয়ে তারা আলোচনায় আসে। এক মাসের মাথায় ৫ মে ঢাকা ঘেরাও এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিতে অরাজনৈতিক সংগঠনটি সামনে চলে আসে। ৫ মে তাণ্ডবের দিন বিএনপি ও জামায়াত প্রকাশ্যেই সমর্থন দেয় এ সংগঠনটিকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, একটি গোষ্ঠী সেদিন নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য তাদের রাজনৈতিকভাবে উদ্বুদ্ধ করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। আর মামলাগুলো সঠিক সময় তদন্ত না হওয়ার কারণও ওই গোষ্ঠী। কেননা তাদের মামলার তদন্তেই পুলিশকে বেশি সময় দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন