এ সপ্তাহে বাংলাদেশী মৌলবাদী শ্রমিকদের দ্বিতীয় দল আটকের নাটকীয় ঘোষণা বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিদেশী শ্রমিকদের কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের কর্মকাণ্ড নিয়ে এ গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করবে। বিশেষ করে, এ বছরের আগেও ইন্টারন্যাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে ২৭ বাংলাদেশী শ্রমিক আটকের খবরের পর। প্রশ্ন উঠছে, জনসাধারণের কেমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ? মৌলবাদী বিদেশীদের উপস্থিতি অন্য দেশগুলোর সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলা ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অপরদিকে সিরিয়া বহুদিন ধরে নিজ সীমান্তের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিদেশী জিহাদীদের বিরুদ্ধে লড়ছে।
যে বাংলাদেশীদের এখানে আটক করা হয়েছে তারা ঝুঁকি সৃষ্টি করেছিলেন। প্রাপ্ত প্রমাণাদি মতে, তাদের মূল নিয়ন্ত্রক ও আদর্শিক গুরু নির্দেশ দিলে এখানেও (সিঙ্গাপুরে) তারা হামলা চালাতে দ্বিধাবোধ করতো না। তারা তাদের দলটিকে ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ’ নামে ডাকতো। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করা অথবা সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে বিদেশী সৈন্যদের সঙ্গে যোগ দেয়ার ইচ্ছা তারা লালন করেছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিস্তারের কারণ হতে পারে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে কর্তৃপক্ষের নেয়া প্রচেষ্টা। বাংলাদেশী মুসলিমরাও উগ্র মতাদর্শের টানাটানি ও চাপের শিকার হয়েছে। এ মতাদর্শ ইন্টারনেটের বদৌলতে ছড়াতে পেরেছে।
এই গোলমেলে পরিস্থিতির বিপরীতে, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, বিপথে চালিত বাংলাদেশী, যারা খুব অল্প সংখ্যক, ও ভালো বাসিন্দা যারা সিঙ্গাপুরের উন্নয়নে মূল্যবান ভ’মিকা রাখছেন, তাদেরকে আলাদা চোখে দেখতে হবে সিঙ্গাপুরিয়ানদের। এখানে প্রায় ১৬০০০ বাংলাদেশী কাজ করছেন। তারা অনেক বেশি শান্তিপ্রিয়। তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসের মধ্যপন্থী ব্যাখ্যা অন্তরে ধারণ করেন। এরা বেশিরভাগই সুন্নি মুসলিম। তাদের সবাইকে একগোত্রে ফেলাটা শুধু অন্যায়ই হবে না, বরং বিপরীত ফল বয়ে আনবে। যেকোন ধরণের বিচ্ছিন্নকরণ ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ঝুঁকি বাড়ায়। ইউরোপের অভিজ্ঞতা থেকে এটি দেখা যায়।
সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বায়ন এমনই। গভীরভাবে হুমকির দিকে মনোযোগ ও ¯পষ্টভাবে এসবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর সন্ত্রাসবাদকে কোন সুযোগ না দেয়ার যে নীতি নিয়েছে তা সঠিক। কোন ক্ষতি করার আগেই সন্দেহভাজনদের ধরে ফেলতে গোয়েন্দা সংস্থা খুবই ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু তারা একাই সব করতে পারবে না। সন্ত্রাসবাদের হুমকিকে ঠেকিয়ে রাখতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোন হামলা হলে কী করতে হবে, তা জেনে রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
অপরদিকে বিদেশী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কিছু কথা প্রযোজ্য। এখানকার নিয়ম কানুন অনুসরণই নয় শুধু, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার মতো সামাজিক আচরণ মেনে চলার দায়িত্ব সবারই। সবসময় সতর্ক থাকা ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করার অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার কথাই আবারও মনে করিয়ে দেয় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনা। (সিঙ্গাপুরের শীর্ষ দৈনিক দ্য স্ট্রেইট টাইমসের সম্পাদকীয়।)


