বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আদালত অবমাননা নয় কি? প্রশ্ন নজরুলের

najrul islam khanসংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়কে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেয়া বক্তব্য আদালত অবমাননা কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, একটি রিট আবেদনে দেয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে।

রায়ে আদালত বলেন, ‘সংসদের মাধ্যমে বিচারকগণের অপসারণ প্রক্রিয়া ইতিহাসের একটি দুর্ঘটনা।’

অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, হাইকোর্টের রায় সংবিধান পরিপন্থি। এতে আদালত অবমামননা হচ্ছে না? আমি তো মনে করি, আদালতের এটি বিবেচনা করা দরকার।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের রায়কে যখন বলা হয়- সংবিধান পরিপন্থি, এর চেয়ে বড় আর কী বলা যাবে! তাই এটি আদালতের বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এরশাদের সময়ে আদালত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। তখন এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকা বিরোধী রাজনৈতিক জোট (আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল) দাবি করে বলেছিল, সংসদে পাস করা সরকারের কোনো আইন আদালত যখন বাতিল করে দেয়, তখন ওই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না। আওয়ামী লীগও তখন এতে একমত ছিল।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই সময়ের (অষ্টম সংশোধনী বাতিলের সময়) বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে এখন আদালত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়ার পর এই সরকারের কী হবে? পার্লামেন্টে পাস করা আইন (সংশোধনী) আদালত বাতিল করে দেয়ায় তাদেরও (আওয়ামী লীগ) তো আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়ার পর এখন সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন-জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন