সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় নিয়ে এখনই প্রতিক্রিয়া না দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মনে করেন, ‘আপিল বিভাগেই চূড়ান্ত হবে, কার হাতে থাকবে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা।’
ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এ ব্যাপারে সবাইকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, ‘ইতিমধ্যে যে ধরনের মন্তব্য এবং ঝড়-পাল্টা ঝড় উঠছে, এটা আমার মনে হয় না সঠিক রেসপন্স। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব—হাসে অন্তর্যামী। এই যে ম্যাসেজটা (বার্তা) তিনি দিয়েছেন তা ফলো (অনুসরণ) করা দরকার।’
বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে রাখার পক্ষে যুক্তি আছে বলে মনে করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তবে, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন থাকায় আপিল বিভাগের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ তার। তিনি বলেন, ‘সংসদের হাতে থাকবে না জুডিশিয়ারির হাতে থাকবে? জুডিশিয়ারি বলছে, তাদের ইমপিচমেন্ট তাদের হাতে থাকবে। সরকার বলছে, না তাদের হাতে থাকবে। সরকার বলার কারণ আছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, অল পাওয়ার বিলং টু দ্য পিপল (সকল ক্ষমতা জনগণের)। সে জন্য তারা বলছে, পার্লামেন্ট ইজ এ সুপ্রিম হেড (সংসদ হলো সর্বক্ষমতার অধিকারী)। পার্লামেন্ট ডিসাইড করবে জাজ মিস কনডাক্ট হলো কি হলো না।’
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে সংসদ আর বিচার বিভাগের টানাপড়েনের সমাধান হবে বলেও মনে করেন দেশের বিশিষ্ট এই আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংবিধান পরিপন্থী বলে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন।
এ রায়ের পর গতকাল সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বলেন, সংসদই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ফলে সংসদের হাতেই থাকবে বিচারক অপসারণ ক্ষমতা।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যে বলেন, এ রায় সংবিধান পরিপন্থী। আগামী রোববার-সোমবারের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টের এ রায় আপিলে টিকবে না। এটাই শেষ সিদ্ধান্ত নয়।


