যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর জন্য জামায়াতের ডাকা হরতালের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুরে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।
সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোববার দুপুরে মিরপুর ১ নম্বরে এই সংঘর্ষ হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, দুই সাংসদের সমর্থকরা সকাল থেকে মিরপুর এলাকায় হরতালবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করছিল।
“বেলা ১২টার দিকে মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-ধাওয়িতে রূপ নেয়। এসময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের ছররা গুলিতে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।”
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর দুই সাংসদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া যায়।
বিকালে সাবিনা আক্তার তুহিনের স্বামী রাসেল কামালী বিদ্যুৎ বলেন, “সকালে মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের বনফুল মিষ্টির দোকানের ভেতর তুহিন সমর্থকদের নিয়ে বসে ছিলেন।
“সে সময় আসলামুল হকের সমর্থকরা তার উপর হামলা চালায়। তুহিনের ঘাড়ে, পিঠে, পায়ে আঘাত করা হয়েছে।”
মিরপুর ১০ নম্বরের একটি ক্লিনিকে তুহিনকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল বলে জানান তিনি।
বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সাংসদ আসলামুল হকের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তার গাড়ি চালক হুমায়ুন ফোন ধরেন।
গাড়িতে ফোন রেখে সাংসদ ধানমন্ডিতে নিজের অফিসে ‘জরুরি মিটিং’ করছেন বলে জানান হুমায়ুন জানান।
মিরপুরে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরে স্যারের সঙ্গে কথা বলে তার মুখেই ঘটনা জানতে পারবেন।”
যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ খারিজ করার পর তার দল জামায়াতে ইসলামী রোববার হরতালের ঘোষণা দেয়।
এই হরতালের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের নেতা-কর্মীরা নগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মিছিল সমাবেশ করছে।



Leave a Reply