গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করার পেছনে সরকারের রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্য রয়েছে। এ কারণে দলটির সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। সরকারের এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
গণজাগরণ মঞ্চ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে রোববার বেলা ১১টা থেকে জামায়াতের হরতালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা হরতালবিরোধী নানা স্লোগানে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
বিবৃতিতে ইমরান এইচ সরকার জানান, সরকার জঙ্গিবাদী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ না করে জনগণকে বোঝাতে চায় যে, জামায়াতের সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা দমন করতে ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে জামায়াতের সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে সরকার নিষিদ্ধ না করে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। তাই আর কোনো টালবাহানা না করে জামায়াত-শিবিরের সব রকম কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আমরা মহান সংসদে এক কোটি গণস্বাক্ষর জমা দিয়েছিলাম। সরকারের তরফ থেকে বারবার শুধু জামায়াত নিষিদ্ধ করার বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। অথচ কোন অদৃশ্য কারণে এখনো জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে না। এটা আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, যারা বলছেন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হলে জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হবে, তারা জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন। জামায়াত সব সময়ই একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন। তারা সব সময়ই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই যুদ্ধাপরাধী সংগঠনটি নামে-বেনামে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইমরান বলেন, সারা দেশে যখন একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলছে, তখন সরকার খুনিদের গ্রেফতার করার বদলে দেশে জঙ্গি নেই-তা প্রমাণে ব্যস্ত। আমরা জানতে চাই, তাহলে কারা এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনুন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাহলেই জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হবে। কেবল বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়।


