‘চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের দেয়া এই বক্তব্যে গোটা জাতি হতবাক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, নির্বাচনে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সিইসির কাছে যে তা একেবারেই তুচ্ছ ব্যাপার সেটি উনার বক্তব্যেই স্পষ্ট। সিইসির ভাবখানা এমন, যেন মানুষের জীবন তুচ্ছ। সিইসির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড এখন একেবারেই ভাঁড়ের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এ ধাপেও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটে অনিয়ম হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যবস্থার কারণে সহিংসতা ও গোলযোগের ঘটনা কিছুটা কমেছে। আশা করি, আগামী ধাপে অনিয়ম ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট হবে।’
সিইসির ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সিইসি বলেছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ অথচ নির্বাচনী সহিংসতায় গতকালই (শনিবার) ৮ জনের প্রাণ গেছে। প্রাণহানি আর রক্তপাতের বীভৎস পৈশাচিক নির্বাচন দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ সেটিকে আমলে না নিয়ে সিইসি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনো সুস্থ বোধসম্পন্ন মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব কি না, এটি আজ দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত ৭৯ জন মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে। অথচ রকিবউদ্দীন সাহেব এটাকে পানিভাত মনে করছেন। প্রাণহানির ঘটনা সিইসির কাছে তুচ্ছ ব্যাপার।’
সিইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং তিনি নিষ্ঠার সাথে সরকারের চাকরি করেছেন। তিনি সংবিধান বহির্ভুত বেআইনি কাজ করেছেন বলেই নির্বাচনে এতো রক্তপাত, সহিংসতা ও লোকক্ষয় হয়েছে। তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড এখন একেবারেই ভাঁড়ের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিকৃত স্বাস্থ্যবর্ধনে বর্তমান সিইসি যে ভূমিকা রেখেছেন তা ইতিহাসে কালিমালিপ্ত কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পটু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াসউদ্দিন মামুন প্রমুখ।


