খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘অবস্থান নিয়ে’ বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কমনওয়েলথের একটি বৈঠকে আলোচনার প্রস্তাব তুলেছিল পাকিস্তান।
কিন্তু লন্ডনে কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রুপের ওই বৈঠকে সদস্য অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উড়িয়ে দেওয়ায় ইসলামাবাদের ওই প্রস্তাব হালে পানি পায়নি বলে এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলে সভায় অংশ নেওয়া এক মন্ত্রী জানিয়েছেন।
খালেদার ‘পাকিস্তানপ্রীতির’ বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলে থাকেন, “উনার মন পড়ে থাকে পেয়ারে পাকিস্তানে।”
৫৩টি রাষ্ট্রের জোট কমনওয়েলথের মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রুপ সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটলে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। কোনো দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত হলে তা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপও আসে এই ফোরাম থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিক জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ বৈঠকে প্রস্তাবটি তুলেছিলেন।
বাংলাদেশে বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যথাযথ হয়নি বলে বৈঠকে আলোচনায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি তুলেছিলেন বলে তিনি জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার বিরুদ্ধে ৩৩টি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলার তথ্য তুলে ধরে সারতাজ আজিজ বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক মত প্রকাশের অধিকার ‘সঙ্কুচিত’ হয়ে এসেছে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশে বিচার বিভাগের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ চলছে অভিযোগ তুলে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ এবং কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে বিবৃতির প্রস্তাব রাখেন।
“কিন্তু অন্য দেশগুলো তার প্রতিবাদ জানায় এবং এর ফলে বিবৃতি দেওয়ার কোনো ক্ষেত্র তৈরি হয়নি,” বলেন ওই কূটনীতিক।
একাত্তরে প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই দেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপের চেষ্টা দেখা গেছে।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে চলমান বিচার নিয়েও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ জানিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয় ঢাকার পক্ষ থেকে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যারা দণ্ডিত হচ্ছেন, তারা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে এই ভূখণ্ডে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগে যুক্ত ছিলেন।
এই পর্যন্ত দণ্ডিতদের অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
তাদের জোটসঙ্গী দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও রয়েছেন দণ্ডিতদের মধ্যে।


