বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নিজামীকে ঝুলাতে প্রস্তুত ৮ জল্লাদ, নেতৃত্বে রাজু

jollad--rajuমানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ রাজুকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। তার পরনে ছিল সাদার মধ্যে হালকা কালো ডোরাকাটা পোশাক।

রাজু ছাড়াও আরো সাত জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরা হলেন- আবুল, হযরত, সাত্তার, রনি, ইকবাল, মাসুদ ও মুক্তার।

এদিকে, রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে নিজামীর। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগের দোষ স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমার আবেদন করতে হবে।

অবশ্য মতিউর রহমান নিজামী ক্ষমা চাইবেন না বলে জামায়াত ও নিজামীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ফাঁসির রায় কার্যকরে কোনও বাধা থাকবে না। সরকার যেদিন, যখন চাইবে তখনই ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবে।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, রাজুর নেতৃত্বে ফাঁসির রায় কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে যদি কোনও কারণে রাজু ফাঁসি কার্যকরে অংশ নিতে না পারেন তাহলে আবুল, হযরত বা সাত্তার এ সুযোগ পাবেন।

এর আগে জল্লাদ সর্দার শাহজাহান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য বেশিরভাগ ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং ৩৬ বছর ধরে কারাগারে আছেন।

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন তিনি। তার হাতেই জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, খুলনার গডফাদার এরশাদ শিকদার, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামিসহ বিভিন্ন মামলার বেশ কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

Jallad-Rajuজল্লাদ শাহজাহান ও জল্লাদ রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেই সঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকায় তাদের নাম প্রথমে রাখা হয়। তবে জল্লাদ শাহজাহানের বয়স হয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তার হাতে। তাই এবার অন্যদের সুযোগ দেওয়া হবে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সময় শাহজাহানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন রাজু।

২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু। রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন।

এছাড়াও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কাযর্করের সময়ও জল্লাদ শাহজাহানকে সহযোগিতা করেছিলেন জল্লাদ রাজু ও জনি।

তালিকা অনুসারে কর্তৃপক্ষের নজরে অন্য যারা রয়েছেন তারাও প্রশিক্ষিত। এ ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে একবার মহড়া দেওয়া হবে। তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কার নেতৃত্বে, কে কে ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখবেন। মৃত্যুদণ্ড কাযর্করের সময় একজন জল্লাদ নেতৃত্ব দেবেন এবং তাকে সহায়তা করবেন আরো দুইজন জল্লাদ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম জানান, কারাগারের পক্ষ থেকে সব সময়ই সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়। এ ক্ষেত্রেও এর কোনও ব্যতিক্রম হবে না।

আরও পড়ুন