মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে ঢুকেছেন তার স্বজনরা।
কারা কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠানোর পর মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় তিনটি গাড়িতে করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের স্বজনদের কারাগারের সামনে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
যুদ্ধাপরাধী নিজামীর মৃত্যুদণ্ড মঙ্গলবার কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা কারা কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারি কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে না এলেও তোড়জোড়ের মধ্যে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিকাল থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সড়কে গাড়ি চলাচল।
তিনটি গাড়িতে নিজামীর স্বজনদের মধ্যে অন্তত ২৪ জন কারাফটকে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় রিভিউয়ের আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার শোনানো হয় বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে যে কোনো সময় দণ্ড কার্যকর করা যাবে।
তারপর বিকালে নিজামীর অন্যতম আইনজীবী মতিউর রহমান আখন্দ বলেন, “কারা কর্তৃপক্ষ দেখা করতে যেতে বলেছে। উনারা (পরিবার) যাচ্ছেন।”
গত বৃহস্পতিবার রিভিউয়ের রায় খারিজের পরদিন কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন পরিবারের সদস্য।
এর পরদিন জামায়াত আমিরকে ঢাকায় আনা হয়। তার তিন দিনের মধ্যে ফের দেখা করতে ডাক পেলেন পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে বিকাল থেকে কারা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে দেখা যায়। কারাগারের সামনের সড়কে ব্যারিকেড বসানোর পর বন্ধ করে দেওয়া হয় গাড়ি চলাচল।
চকবাজারের হাজী সেলিম টাওয়ার সামনে রাস্তায়, জেলখানার উত্তর গেটে মাকুর শাহ মাজারের সামনে, মৌলভীবাজার মোড়ে তিনটি ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, “নিজামীর ফাঁসিকে কেন্দ্র করে কারাগারের সামনে সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অনেক মানুষ জড়ো হচ্ছে, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
কারাফটকের সামনে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব সদস্যদেরও অবস্থান রয়েছে। সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর দেখা যাচ্ছে।
বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে একাত্তরের আলবদর নেতা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে এই বছরের ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়। তা পুনর্বিবেচনায় নিজামীর আবেদন গত ৫ মে খারিজ হয়ে যায়।
ওই রায় সোমবার প্রকাশের পর শুরু হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া।


