ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক এজেন্টের সঙ্গে দলের যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের খবরে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। দু’দিন আগে আসলাম চৌধুরীকে ডেকে এ বিষয়ে কথা বলেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে অনেকটা সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন আসলাম। গত কয়েকদিনে দেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে আসলাম চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তিনি তাকে অবহিত করেছেন। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। বিষয়টি নিয়ে আবারও দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।’
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দিল্লির বৈঠকের খবরাখবর নেয়ার জন্য গোয়েন্দা প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আসলাম চৌধুরী যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, তার জন্য দেশের সবগুলো বিমান ও স্থলবন্দরে ছবি ও বায়োডাটা পাঠানো হয়েছে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। তবে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে জোরালো কোনো প্রতিবাদ না করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে এটা কোনো ষড়যন্ত্র কিনা, সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো এ ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত দলের একটি অংশ। হাইকমান্ডের এমন নীরবতায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ ও বিব্রত।
জানা গেছে, সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এক সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিনিধির সঙ্গে দলের এক নেতার ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে দলের চেয়ারপারসনের প্রতি আহ্বান জানান ওই নেতা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ওই নেতার সঙ্গে কথা বলব।
বৈঠকের পরপর ওই রাতেই অভিযুক্ত ওই নেতা দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে তার কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চান খালেদা জিয়া। এ সময় আসলাম চৌধুরী চেয়ারপারসনকে জানান, গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। ভারতে কোনো একটি অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। এ সময় খালেদা জিয়া তাকে সতর্কভাবে চলাফেরার নির্দেশ দেন
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মাহবুবুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি বৈঠকে চেয়ারপারসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি (খালেদা জিয়া) বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
৯ মে নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’-এ প্রকাশিত হয়। সেই সূত্রের বরাদ দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠক সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তবে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলছে বিএনপি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিদেশে গিয়ে বিএনপির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট।


