শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

Comilla-Murder‘ভোটের বিরোধে’ এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার পর আরও তিনজনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা সদরের এক ইউপি সদস্য ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়ার হাকীম ঠিকাদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান।

নিহত রাকিবুল হাসান মুকুল (৪০) শহরের ‘তিহা ডেকোরেটর্স’ এর মালিক। তিনি নোয়াপাড়ার ইউনুস মিয়ার ছেলে।

তার লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মুকুলের প্রতিবেশী সাইফুল (৪১), রিফাত (৩০) ও রিপনকে (২৮)।

সকালে হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক খবরের ভিত্তিতে পুলিশ বলেছিল, ‘আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে’ দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে।

পরে নিহতের স্ত্রী নুরুন নাহারের অভিযোগ করেন, দক্ষিণ দূর্গাপুর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত মেম্বার সেলিম মিয়া ও তার ভাতিজা আরিফের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়।

নাহার বলেন, “ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আমার স্বামীকে গুলি করেছে সেলিম মেম্বার আর তার ভাতিজার লোকজন।”

আহত সাইফুল বলছেন, মুকুলকে খুনের পর সেলিম ও তার লোকজন তার বাড়িতে ‘হানা দেয়’।

“সেলিম মেম্বার, আরিফ আর তার সহযোগী রাসেল ও করিম আমার বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে আমার দুই বন্ধুসহ আমি আহত হই।”

গত ২৩ এপ্রিল দক্ষিণ দূর্গাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন সেলিম মিয়া।

আর হতাহতরা সবাই ওই নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী নুরুল হককে সমর্থন দিয়েছিলেন বলে মুকুলের স্ত্রীর বরাতে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ।

তিনি বলেন, “ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মুকুলের সঙ্গে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী নুরুল হকের ভালো সর্ম্পক ছিল। হতাহতরা সবাই নুরুল হকের পক্ষে কাজ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ থেকেই গুলির ঘটনা ঘটেছে।”

অন্যদিকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে সেলিম মিয়া বলেন, “আমি জড়িত নই। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।”

ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন