ফাঁসির মঞ্চে নাকি সহজে উঠতে চাননি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। একাত্তরের ‘আল বদর বাহিনী’র প্রধান হিসেবে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া নিজামীকে জোর করে ফাঁসির মঞ্চে তুলতে হয়েছে। এই সময় তার সঙ্গে জল্লাদদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। নিজামীর ফাঁসি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কারা অভ্যন্তরের একটি সূত্র এমন দাবি করেছে। যদিও এর আগে জানা গিয়েছিল নিজামী নাকি ওই সময় স্বাভাবিক ছিলেন। তবে এটা তো ঠিকই, নিশ্চিত মৃত্যু জেনে কে ওই মঞ্চে সহজে উঠবে!
কারা সূত্র জানায়, রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে নিজামীকে ফাঁসি মঞ্চে নেওয়ার পথে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। তার এই অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে নির্ধারিত সময় রাত বারোটা ১ মিনিটে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো যায়নি। এই জন্য দশ-বারো মিনিট সময় অতিরিক্ত ব্যয় হয় বলেও ওই সূত্রের দাবি।
সূত্রটি আরও দাবি করে, মতিউর রহমানকে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসার জন্য তিনজন জল্লাদ যখন যায় তখন তাদের সঙ্গে জোর-জবরদস্তি করেন তিনি। পরে জল্লাদরা জোর করে যখন তার মাথায় জমটুপি পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে তুলছিলেন তখন বেশ কয়েকবার বসে পড়েন নিজামী এবং মঞ্চে উঠতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে সহযোগী জল্লাদরা নিজামীকে নাকি পাঁজাকোলা করে ধরে ফাঁসির মঞ্চে উঠান।
এর পর মঙ্গলবার ১০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র জানায়, ১২টা ১০ মিনিটে ম্যাজিস্ট্রেট লাল রুমালটি ফেলে দিলে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ রাজু। নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসিকাষ্ঠে তাঁকে ২০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা হয়। সাড়ে ১২টার সময় ফাঁসিকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে তার লাশের গোসল করানো হয়। এরপর কফিন করা হয়। আরো কিছু দাফতরিক প্রক্রিয়া শেষ করে রাত দেড়টার দিকে কারাগার থেকে তার লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পাবনার সাঁথিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।
ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. সালাহ উদ্দিন, সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা, জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকা সরকারি এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, ফাঁসির সময়কার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলা আইনত: নিষেধ আছে। তাই এই ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবো না। আপনারা অন্য কোনোভাবে যদি জানতে পারেন, জানার চেষ্টা করেন।


