গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীতে ‘হায়দ্রাবাদ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’মাঠে স্কুল মাঠে গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া হয়েছিল কূপটি।
কাজ শেষে ভরাট না করে কূপটি বালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।এভাবেই কেটে গেছে প্রায় এক বছর।
কিন্তু গত দু’দিনের বৃষ্টিতে বালি নরম হয়ে কূপটি যে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে তা কি জানত শিশু শিক্ষার্থী রোমানুর রহমান (৫) ও হাবিবুল ইসলাম সানি (৫)?
শনিবার সকালে পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে আগের মতোই স্কুল মাঠে খেলছিল তারা।হঠাৎ করেই কূপে পড়ে যায় রোমানুর। তার উপর পড়ে সানি।
স্থানীয়রা ২৫ মিনিটের চেষ্টায় দু’জনকে উদ্ধার করে। তবে এর মধ্যে রোমানুর মারা যায়। আশংকাজনক অবস্থায় সানিকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে টঙ্গীর সুকন্দিরবাগে ‘হায়দ্রাবাদ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’মাঠে ছাত্ররা খেলাধুলা করছিল। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে কুপটিতে রোমানুর ও সানি পড়ে যায়।
পৌনে ১১টায় স্থানীয়রা তদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোমানুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কুলটির শিক্ষক রুবেল শেখ বলেন, স্কুলের নবনির্মিত ভবনের সামনে সাত থেকে আট মাস আগে একটি গভীর নলকূপ বসানো হয়। কিন্তু পানি না ওঠায় তা তুলে গর্ত বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়।
তিনি জানান, শনিবার সকালে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ভবনের সামনে খেলছিল শিশু দুটি। এ সময় ভেতরে পড়ে যায় রোমানুর ও সানি।
এদিকে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে যোগাযোগ করলে জিয়াউর রহমান নামে এক সদস্য জানান, দুই শিশু পাইপে পড়ে যাওয়ার খবরে ঢাকা ও গাজীপুর স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই দুই শিশুকে পাইপ থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য যে কূপ খোড়া হয় তাকে সাবমারসিবল বলা হয়।
ওই স্কুলটির মাঠে খোড়া সাবমারসিবলটি বালি দিয়ে ভরাট করে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়। এতে পড়ে গিয়ে এক শিশু নিহত ও অপরজন আহত হয় বলে জানান তিনি।


