ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ভেঙে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাত্র ৫০ বলেই করেছেন সেঞ্চুরি। শুধু দ্রুততম সেঞ্চুরি নয়, এদিন বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা মারার রেকর্ডও গড়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।
এর আগে অবশ্য সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন মাশরাফি। সেটা ছিল ‘ফাস্ট ক্লাস’ ক্রিকেটে, যা ঘরোয়া ক্রিকেটের লঙ্গার ভার্সন। সেবার ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
মাশরাফির এই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার দিনে এভাবে অনেক রেকর্ড হয়ে গেলো এলোমেলো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার ৫১ বলে ১০৪ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানের পাহাড় গড়েছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। প্রতিপক্ষ শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাশরাফি ঝড়!
ফতুল্লায় শনিবার কলাবাগানের এই অধিনায়কের ১১ ছক্কা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড। ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসান ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বুলাওয়ে ওয়ানডেতে। সেই রেকর্ড ভেঙেছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি। এনামুল হক ও ইজাজ আহমেদের এক ইনিংসে ১০টি করে ছক্কা মারার রেকর্ড আছে। সেটি ভেঙে ছক্কার রেকর্ডে শীর্ষে বসলেন মাশরাফি।
বাংলাদেশের মাটিতে এটা অবশ্য তৃতীয় দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর ২০১৩ সালে ঢাকা লিগে জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর ৪৬ বলে শতক করেছিলেন। তাদের পরের জায়গাটি এখন মাশরাফির।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সাতটি ফিফটি আছে মাশরাফির। সেঞ্চুরির অভাবটা অসাধারণ ভাবে পূর্ণ করলেন এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান। এদিন ব্যাটিংয়ে ৬ নম্বরে উঠে আসেন। ৩৬তম ওভারে তার শুরু। ৪ উইকেটে ১৬৯ রান তখন দলের। এরপর ৪৯তম ওভারে আউট হয়েছেন মাশরাফি। তার খুনে ব্যাটিংয়ে দল ততক্ষণে পেয়েছে বড় সংগ্রহ।
তার আগে মাশরাফির তাণ্ডবের শিকার শেখ জামালের বোলাররা। ৩৫ বলে ফিফটি করেছিলেন ১টি চার ও ৪ ছক্কায়। পরের পঞ্চাশ করতে মাত্র ১৫ বল খেলেছেন মাশরাফি! মেরেছেন আরো ৭টি ছক্কা! ৭৯ রান থেকে স্পিনার ওয়াহিদুল আলমের এক ওভারে ৪ ছক্কা মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছেছেন মাশরাফি। তার ৬২ মিনিটের ইনিংস শেষ হয় শফিউল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে। ৫১ বলে ১১টি ছক্কা ও ২টি বাউন্ডারিতে ১০৪ রানের খুনে ইনিংস খেলে স্বস্তি নিয়েই ফিরেছেন মাশরাফি।


