আমাদের দেশে আইএস না থাকলেও তাদের মতাদর্শের লোক আছে। সেটাকেই আন্তর্জাতিকিকরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অস্তিত্ব রক্ষার প্রত্যয়ে এবং সম-অধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
মেনন বলেন, ‘নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে আমাদের বিমান বন্দর নিয়ে ইউএস, ইউকে আর অস্ট্রেলিয়া যা শুরু করেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানতো বিরাট বড় ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। তারা নাকি বিচার চাইতে জাতিসংঘে যাবে।’
এসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ও আইএস ইস্যুতে সরকারের ওপর বিদেশিদের চাপ আছে বলে জানান মেনন।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমরা অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের পথে হাঁটছি। কিন্তু সংবিধান থেকে আমরা এখনো সাম্প্রদায়িক দলগুলো দূর করতে পারছি না। শত্রু সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন করতে পারছি না। ফলে যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় নিয়ে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আপনারা আপত্তি করবেন আবার জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাবেন তা হতে পারে না। জাতীয় ঐক্য জঙ্গিবাদ আর যুদ্ধাপরাধীদের বাদ দিলেই হবে।’
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের সঞ্চালনায় জাতীয় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান, জনসংহতি দলের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল, উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী, মেজবা কামাল, শাহরিয়ার কবির, জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।


