কক্সবাজারের টেকনাফে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের’ হামলায় ৬ সাংবাদিককে আহত করার ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। এসময় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, হামলার একদিন পরও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার পরপরই হামলার বিষয়টি সাংবাদিকরা অবহিত করলেও অনেক দেরিতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হামলাকারীদের ব্যাপারে সব তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকার পরও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানের ভূমিকা রহস্যজনক।
এছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচী থেকে রোববার সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন। সমাবেশের পর এক বিক্ষোভ মিছিল কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সাংবাদিক নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানান।
টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন জানান, আহত ৬ সাংবাদিককে শুক্রবার রাতেই টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সুলতান আহমদ সিরাজী জানান, আহত সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন রুবেলের অবস্থা আশংকামুক্ত। তার পিটে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাত রয়েছে। অন্য চার সাংবাদিক চিকিৎসাধীন থাকলেও একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম মিন্টু চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরেছেন।
শুক্রবার বিকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ায় ইয়াবা উদ্ধারের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের’ হামলায় আহত হন সময় টেলিভিশনের কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন রুবেল ও তার ক্যামেরাপার্সন আবুল ফরাজ, ইন্ডিপেন্ডেট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম লিপু ও ক্যামেরাপার্সন শরীফ উদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম মিন্টু ও ক্যামেরাপার্সন বাবু দাশ।
হামলাকারীরা সাংবাদিকদের বহন করা গাড়ী ভাংচুর ও ক্যামেরা পুড়িয়ে দেয়।
হামলার পরপরই আহত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভূট্টোর নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত তাদের উপর এ হামলা চালায়।
এদিকে শনিবার সকালে আহত সাংবাদিকে দেখতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতা আবু তাহের বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। ঘটনার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর পরও অনেক দেরিতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সাংবাদিকদের হামলার ঘটনার মূলহোতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভূট্টো ও তার লোকজনের সব খোঁজ-খবর থাকার পরও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনও তৎপরতা নেই।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই প্রশাসনকে সাংবাদিকরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৪ ঘন্টার সময় দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার একদিন পরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এর প্রতিবাদে রোববার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হবে। এরপরও যদি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়া হবে।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক বদিউল আলম, তোফায়েল আহমদ, বিশ্বজিত সেন বাঞ্চু, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশিদ।


