অত্যধিক খরা মোকাবিলার জন্য বড় বড় নদীগুলোর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। এমন নদীর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাও। ভারতের যেসব এলাকা প্রখর খরা মোকাবিলা করছে এসব নদীর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করে সেই এলাকায় প্রবাহিত করা হবে ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী। ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী এ কথা বলেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
উমা ভারতী বলেছেন, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গার মতো বড় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ পরিবর্তন করে খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ করা তার সরকারের এখন অগ্রাধিকারে রয়েছে। ভারতে খরার শিকার কমপক্ষে ৩৩ কোটি মানুষ। ভারতের বেশির ভাগ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ। কোন কোন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এ জন্য অনেকগুলো নদীর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। অনেকগুলোতে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিবেশবিদরা এমন প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে।
তারা বলছেন, এতে জীববৈচিত্র বিপর্যস্ত হবে। কিন্তু তাদের সেই সতর্কতা এড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। উমা ভারতী বলেন, নদীগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা আমাদের প্রধান এজেন্ডা। এক্ষেত্রে আমরা জনগণের সমর্থন পেয়েছি। দ্রুততার সঙ্গে আমরা এ কাজ করতে চাই। আমরা এখন ৫টি সংযোগ নিয়ে কাজ করছি। প্রথমেই উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মধ্যে কেন-বেতওয়া সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এ কাজ এখন যেকোন সময় শুরু করা হবে। এর পরে আমরা ডামনাগঙ্গা-পিনজাল সংযোগ নিয়ে কাজ করবো। এতে মুম্বইয়ের পানীয় জলের সঙ্কট সমাধা করবে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর এটাই হবে প্রথম আন্তঃনদী সংযোগ।
তিনি বলেন, এ ছাড়াও আরও প্রকল্প আছে তাদের হাতে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিকাজে সেচের পানি সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। এমনটা ঘটবে কয়েক বছরের মধ্যে। উল্লেখ্য, পর পর দুটি খরা মৌসুমের ফলে ভারত এখন প্রচ- খরা মোকাবিলা করছে। এর ২৯টি রাজ্যের মধ্যে প্রায় অর্ধেক এলাকায় মারাত্মক পানি সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় আছে মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ। এসব এলাকায় রেল গাড়ির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পানি পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু তাতে চাহিদা মোটেও পূরণ হচ্ছে না।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত অনেক বছর ধরেই পানি সঙ্কট মোকাবিলা করছে। এর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। কৃষিকাজে ও শিল্প কারখানার জন্য পানি উত্তোলনের কারণে এত মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উমা ভারতী বলেছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য ভবিষ্যতে সেখানে পানি সঙ্কট আরও প্রকট হবে। তাই নদীগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হলে সেই সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই প্রকল্প আর্থিকভাবে, পরিবেশগতভাবে অথবা সামাজিকভাবে উপযুক্ত নয়। সরকার এক্ষেত্রে যথাযথ তথ্যউপাত্ত ছাড়াই পরিবেশগত ছাড়পত্র দিয়েছে। সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক ফর ড্যামস, রিভারস অ্যান্ড পিপল-এর হিমাংশু থাক্কার বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কথা বলেও এ কাজ করা অসম্ভব। কারণ, আপনি জানেন না নদীর প্রবাহের কি ঘটবে। এসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে শুধু পানির প্রবাহ পরিবর্তন করতে হবে এরই ভিত্তিতে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত কোন গবেষণা করা হয় নি। তবে সরকার বলছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা যাবে। উৎপাদন করা যাবে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত। ১৯৯০ এর দশকে ক্ষমতায় থাকার সময় এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তখন এর পক্ষে ছিল না কংগ্রেস পার্টি। সেই সময় নির্বাচনে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। ২০১২ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় থাকার সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।


