বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সেলিম ওসমানের বিচার দাবি নাসিমের

mohammad_nasim_13388_1463560677নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধর ও কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিচার দাবি করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ‍ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার দুপুরে ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সংবদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহাল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন স্কুলশিক্ষককে অপমান এবং চাকরিচুত্য করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ ঘটনার মাধ্যমে নিজের এবং সমস্ত সংসদ সদস্যের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন।

নাসিম বলেন, ১৪ দল মনে করে শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহাল ও অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে বিকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ নেতা সেলিম ওসমান।

তবে সেলিম ওসমান বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি।

দশম শ্রেণির ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। সেই রিফাতই এখন ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, স্যার তাকে মারধর করায় সে বিচার চাইতে কমিটির কাছে গিয়েছিল। মারধরের সময় ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষকের কাছে বরখাস্তের চিঠি পৌঁছে।

আরও পড়ুন