হু জুওয়াং হুই (৩৮)। চীনা নাগরিক। এক মাস আগে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে নেমে পড়েছেন ব্যাংক জালিয়াতির মিশনে। শুরু করেন বিভিন্ন বুথের অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ। সবশেষে বুধবার (১৮ মে) এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে টাকা উঠাতে গিয়ে র্যাবের হাতে হাতেনাতে আটক হন তিনি।
আটক চীনা নাগরিক হু জুওয়াং হুই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন।
র্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার মেজর আতাউর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পরবর্তী ৫ মিনিটের মধ্যে হু জুওয়াং হুই ১১বার তার সঙ্গে থাকা ইন্টারন্যাশনাল এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন। এসময় তিনি মোট ৬৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এ ঘটনা ওই বুথের নিরাপত্তাকর্মী দুলাল দেখে ফেলে চীনা নাগরিকের কাছে এটিএম কার্ড দেখতে চান। এসময় তিনি এটিএম কার্ড দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো দুলালকে পুরো ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। দুলাল তার উর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানালে তারা আমাদের জানান।’
তিনি আরো বলেন, ‘চীনা ওই নাগরিক বাংলা বা ইংরেজি ভাষা বোঝেন না। দোভাষী এলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।’
হু জুওয়াং হুই এর সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ আত্মসাৎকারীদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
কীসের ভিত্তিতে হু জুওয়াং হুইকে সন্দেহ করছেন জানতে চাইলে র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনটি কারণে আমরা তাকে সন্দেহ করছি। তার মধ্যে প্রথম কারণটি হচ্ছে তিনি ৬৬ হাজার টাকা ওই বুথের গার্ডকে দিতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয় কারণ, তিনি ১১বার কার্ড পাঞ্চ করেছেন। তৃতীয় কারণ, তার কার্ডগুলো সঠিক না বলে আমাদের মনে হয়েছে।’
এর আগে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের প্রিমিয়ার ব্যাংকের বুথ থেকে ‘জালিয়াতি’ করে আর্থ উত্তোলনের সময় র্যাব ২ এর সদস্যরা চীনা নাগরিক হু জুওয়াং হুইকে হাতেনাতে আটক করেন। এসময় তার হেফাজত থেকে তিনটি ইন্টারন্যাশনাল এটিএম কার্ড ও নগদ ৬৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কার্ড তিনটি র্যাব সদস্যরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন। তাদের সন্দেহ, কার্ডগুলো নকল।


