রমজানে বাজার পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে জনসাধারণকে একসঙ্গে বেশি পণ্য না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে এক বৈঠকে। বুধবার বন্দর নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ব্যবসায়ী নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই বৈঠক হয়।
বৈঠকে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, “দৈনিক যতটুকু প্রয়োজন সেটার বাইরে পণ্য কিনতে গেলে সেটা বাজারে প্যানিক (আতঙ্ক) তৈরি করে। এ বিষয়ে নাগরিকদের আরও মনোযোগী হওয়া দরকার।
বৈঠকে উপস্থিত খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা ছৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন, “দিনে যতটুকু দরকার, তার বাইরে কিনলে তো ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে।
“হুট করে যখন একসাথে দুই সপ্তাহর বা এক মাসের পণ্য কিনতে থাকে, তখন সাময়িক সঙ্কট তৈরি হয়। আর ব্যবসায়ীরা সে সুযোগটা নেন।”
একদিন আগেই ঢাকায় এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নিত্য পণ্যের যথেষ্ট মজুদ থাকার কথা জানিয়ে রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন।
চট্টগ্রামের সভায় রমজানে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর চেষ্টার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে প্রশাসন।
পুলিশ কমিশনার ইকবাল বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে উৎসব উপলক্ষে পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়, নানারকম ছাড় দেয়, আর আমাদের দেশে রমজান, ঈদ এগুলো ‘শুভ মূল্য বৃদ্ধি’ দিবসে পরিণত হয়।”
রমজানে পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না হলে পুলিশ-প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্য থেকে রমজানে পণ্যবাহী ট্রাকে পুলিশের চাঁদাবাজি নিয়ে অভিযোগ করা হয়।
ইকবাল বলেন, “পুলিশের চাঁদাবাজি বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাকে জানাবেন, দেখবেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না। ব্যবস্থা না নিলে সেটা যে কোনো ফোরামে আমাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন।”
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন কৃত্রিম সঙ্কটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাজার পরিস্থিতির উপর কঠোর পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনাও জানান।
“নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মোবাইল টিম ও মনিটরিং সেল গঠন করব। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে রমজানে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানান। তবে সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কমবে বলে আশ্বস্ত করেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন, এ বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ছোলা প্রতি টন ৭৪০ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
সভায় পুলিশ কমিশনার নগরীর যানজট এড়াতে দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে ইফতার সামগ্রী বিক্রি না করতে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি জানান, নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত নির্মিতব্য ফ্লাইওভারের যে অংশে কাজ শেষ হয়েছে সে অংশ থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনি সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে কঠোর থাকবে পুলিশ।
সভায় অভিজাত শপিং মলে পোশাকের দামও মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে বলে জানানো হয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হবে বলে জানানো হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আখতার বলেন, “অভিজাত শপিং সেন্টারগুলোতে মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে পোশাকের গলাকাটা দাম রাখা হয়। ১০ হাজার টাকার শাড়ি বিক্রি হয় লাখ টাকায়।”
তার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন শপিং মলে পোশাকের দাম মনিটরিংয়েও একটি কমিটি হবে বলে জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতা জালাল আহমদ, ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা নাজিম উদ্দিন, কাজীর দেউড়ি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবদুর রাজ্জাক ও রিয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মো. সাইফুদ্দিন।


