‘শ্যামল স্যার আর নেই। তিনি এখন মৃত, তিনি মারা গেছে। তার দেহ আছে, প্রাণ নেই। আমার আর বাঁচার কোনও অধিকার নেই, চক্ষুলজ্জায় কিভাবে থাকবো? যে হাতে শিক্ষার্থীদের শাসন করেছি, তাদের হাতে লাঞ্ছনায় সেই স্যার এখন মরে গেছে।’
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসব কথা বলেন শ্যামল কান্তি ভক্ত। তাঁর দাবী, মারধরের কারণে তার শরীরে এখন প্রচুর ব্যাথা। ঘাড়ে পিঠে ব্যাথা কমছে না। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, ‘আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আর যাতে কেউ এভাবে না ফাঁসে। তাহলে শিক্ষকদের মর্যাদা থাকবে না। আমাকে উদহারণ হিসেবে এখন তৈরি করা হবে। আমার সম্মান আর নেই। আমার উপর যারা হামলা করেছে তাদের কেউ কেউ আমার ছাত্র। আমি একজন হতভাগ্য যে আমার হাতে গড়া ছাত্ররাও আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। আমার সম্মান শেষ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাকে চাকুরীচ্যুত করা হলো। আমার তিন কন্যা ও আমার ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তিত।’
গত ১৩ মে ঘটনার পরদিন থেকে এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন শ্যামল কান্তি। তাকে হাসপাতালে ৩নং কেবিনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে তার কেবিনের বাইরে ২ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। এসময় পুলিশ কনস্টেবল জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতারা দেখা করছেন।
শ্যামল ভক্তকে ভারতে নেওয়ার প্রস্তাব:
এদিকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো: শফিউল আলম ফেরদৌস এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন বন্দর উপজেলার কল্যান্দীতে অবস্থিত পিয়ার সাওার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রী ওই হাসপাতালের নার্স সবিতা হালদার ভক্ত ভারতের মাদ্রাজে নেয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তবে এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ডা. মো: শফিউল আলম। এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে ডা. মো: শফিউল আলম বলেন, গত শুক্রবারের মারধরের ঘটনায় শ্যামল কান্তি ভক্তের সারা শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
গত কয়েকদিনের চিকিৎসায় তিনি অনেকটা ভাল। তাছাড়া উনি ডায়াবেটিস রোগী। এ ছাড়া ২০১৪ সালে তার মস্তিস্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে তিনি নিউরোলজী চিকিৎসকের চিকিৎসা নেন। বর্তমানে সেদিক দিয়েও ভাল আছে। তার চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা আমাদের আয়ত্বে রয়েছে। যদি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় প্রথমে আমরা ঢাকা সরকারী যে কোনও হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানেও যদি চিকিৎসার অবনতি হয় তাহলে বোর্ড মিটিং বসিয়ে বাংলাদেশের বাহিরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই মূহূর্তে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে দেশের বাহিরে নেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
তবে বন্দর উপজেলার কল্যান্দীতে অবস্থিত পিয়ার ছাওার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বিভিন্ন মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার লক্ষন দেখা যায়। এ প্রশ্নের জবাবে ডা. মো: শফিউল আলম জানান, উল্লেখিত ঘটনাটি তিনি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পারার কারনে মানসিক চাপে ওই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন তা না। বিশ্রাম নিলেই অনেকটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন বলে তিনি জানান।
o ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না
o ‘কান ধরানো’ প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহাল: বাতিল ম্যানেজিং কমিটি


