শ্রাবণী গুপ্ত, কলকাতা থেকে।
বহু অঙ্ক, পরিসংখ্যান, জল্পনার অবসান। ডাবল সেঞ্চুরি তো দূরের কথা। ঘাসফুলের দাপটের সামনে কার্যত উড়ে গেল CPI (M) ও কংগ্রেস জোট। উলটে রাজ্যজুড়ে চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজতে শুরু করে দিয়েছে। ফের রাজ্যে ক্ষমতায় এলো তৃণমূল কংগ্রেস। আর একা লড়াই করেই এই সাফল্য এসেছে বলে মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, আগামী শুক্রবারই শপথ নেবে মন্ত্রিসভা।
নির্বাচনের ফলাফলের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন মমতা।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “উন্নয়নই ছিল আমাদের হাতিয়ার। মানুষের হাসিই আমাদের হাসি।” পাশাপাশি, নির্বাচনে সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করা হয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ। যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “শেষ ছ’ মাস কাজ করতেই দেওয়া হয়নি। গত দু’বছরে নানা চক্রান্ত হয়েছে।” সঙ্গে পুলিশকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, তারাও বাড়াবাড়ি করেছে।
নবান্নের দখল ধরে রাখা সুনিশ্চিত হতেই বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার ডাক দিলেন তিনি। একা লড়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেই মমতার ঘোষণা, রাজ্যে বিজয়োৎসব চলবে ৩০ মে পর্যন্ত। গত পাঁচ বছর সরকার যে ঢালাও উন্নয়ন করেছে রাজ্যে, তার জন্যই এই বিপুল জয়। বললেন মমতা।
১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম বাংলায় কোনও শাসক দল একা লড়াই করল। ইতিহাস গড়ে ২১৭ আসন নিয়ে ক্ষমতায় পিরলেন মমতা। গত বার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে দলের ঝুলিতে ঢুকেছিল ১৮৪টি আসন। এ বার একক লড়াইতেই সেই সংখ্যাকে তৃণমূল ছাপিয়ে গেল। কংগ্রেস-তৃণণূল মিলে যত আসন জিতেছিল ২০১১ সালে, এ বার তৃণমূল একাই সেই সংখ্যার কাছাকাছি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে এ দিন প্রথমেই রাজ্যের মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানান। যে বিপুল সমর্থন তৃণমূলের প্রতি উজাড় করে দিয়েছেন ভোটাররা, তাঁর জন্য রাজ্যবাসীকে তিনি ধন্যবাদ জানান। মমতার ঘোষণা, মে মাস জুড়ে এ বার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিজয়োৎসব চলবে। তিনি বলেন, ‘‘ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সব পরীক্ষায় পাশ করেছে ভাল ফল করেছে। তাদের পুরস্কৃত করা হবে। সম্মান জানানো হবে।’’ অর্থাৎ তৃণমূলের বিপুল জয় যেমন উদযাপন করবে দল, তেমনই সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেই বিজয়োৎসবে সামিল করা হবে আরও অনেককে।
বিপুল উন্নয়নের জন্যই এই জয়, বলেছেন মমতা। গত পাঁচ বছরে গোটা রাজ্যে তাঁর সরকার যে কাজ দেখিয়েছে, তার নিরিখেই মানুষ রায় দিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাকে গোটা রাজ্যে শ্রেষ্ঠ করে তোলাই আমার কাজ হবে।’’ আগামী পাঁচ বছর রাজ্যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই তৃণমূলের সরকার কাজ করবে বলে মমতা জানান।


