এক বিধবাকে বাসায় আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফেনীর দাগনভূঞা থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে ওই বিধবা ২০১৪ সালে বহুল আলোচিত দাগনভূঞার কোরাইশমুন্সীতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাইয়ের নেতৃত্বে মেয়েসহ গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।
নির্যাতিতা ওই নারী জানান, রবিবার সকালে পারিবারিক একটি সমস্যা নিয়ে অভিযোগ দিতে থানায় আসেন। তার কথা মত রাইটার আবদুল মান্নান অভিযোগ লিখে তাকে নিয়ে থানার সম্মুখস্থ জামান টাওয়ারে নিয়ে যায়। এখানে এএসআই দেলোয়ারের কক্ষে তাকে রেখে কৌশলে সরে পড়ে।
বিধবার অভিযোগ, একপর্যায়ে এসআই দেলোয়ার দরজা আটকে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসলাম উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি রাইটার মান্নানকে আটক করেন। এ ঘটনায় নির্যাতিতা বিধবা এএসআই দেলোয়ার ও রাইটার মান্নানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে মামলা দায়েরের পর তাদের দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্যাতিতার বাড়ি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে।
সোমবার ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আনা হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি শোনার পর ওইদিন সন্ধ্যায় সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: আমিরুল আলম দাগনভূঞা থানায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন।
দাগনভূঞা থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন জানান, ওই বিধবা নারী এএসআই দেলোয়ার হোসেন ও রাইটার মান্নানকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। মামলা নং-০৯/১৬, তারিখ-২৩/০৫/২০১৬ইং। নির্যাতিত ওই বিধবার বাড়ি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে বলে জানা গেছে।
নির্যাতিত বিধবা জানান, তার স্বামী বেশ কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার তিনটি ছেলে মেয়ে রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।


