শ্রাবণী গুপ্ত, কলকাতা থেকে।
দ্বিতীয় দফা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার শপথ নিতে যাওয়া মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ইলিশ ও জামদানি পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘নিমন্ত্রণ’ পেয়ে যদিও শেখ হাসিনা কলকাতায় মমতার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারছেন না, তবুও তিনি এই শুভেচ্ছা উপহার দূত মারফত পাঠাচ্ছেন।
এর আগে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে প্রতিবেশি দুই নেত্রী এক টেবিলে বসে পদ্মার রূপালি ইলিশ দিয়ে ভাত খেয়েছিলেন। এবার পূর্ব নির্ধারিত সফরে শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার জাপান যাওয়ায় মমতার শপথে যাওয়া হলো না বলে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের খবর।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানান, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী ওই সময় জাপান সফরে থাকবেন। তাই তার পরিবর্তে হাসিনা সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
মমতার জন্য উপহার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানালেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইলিশ উপহার পাঠানো হচ্ছে। পদ্মার ২০ কেজি ইলিশই নয়, শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে যাচ্ছে যশোরের দেবুর গুঁড়ের সন্দেশ এবং জামদানি শাড়ি। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমু এই উপহার তুলে দেবেন মমতার হাতে।
বাংলাদেশ ও ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক গত প্রায় পাঁচ বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সখ্যতার ধারাতে মোদী সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট থেকে শুরু করে ভারী শিল্পেও সহযোগিতায় চলছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। কিন্তু এসবের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখনও দুই দেশের গলার কাঁটা হয়েই আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে এই চুক্তিতে এগোতে পারছে না নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার- এমন কথা ঢাকায় বেশ চাউর আছে।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে শেষ মূহূর্তে ওই সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মমতা। তখন আর চুক্তি হয়নি। দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের অবস্থানে গুরুত্ব দেওয়ায় ওই চুক্তি আটকে আছে।
এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মমতা ঢাকা সফরে এলে জল বণ্টন চুক্তি ও ইলিশ নিয়ে মমতাকে খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’-এ এক অনুষ্ঠানে ইলিশে আপ্যায়িত মমতা তার রাজ্যে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ না পাওয়ার অনুযোগ জানালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “পানি এলে ইলিশও যাবে।”


