একেবারে হঠাৎ করেই বিয়ে করেছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি। ঢালিউড বা বলিউডে বিয়ে করার পর অনেক নায়িকাই নানা কারণে সরে দাঁড়ান অভিনয় থেকে। এসব বাস্তবতা জানার পরও এ প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়িকা মাহি হুট করে বিয়ে করে ফেলায় সংশয় দেখা দিয়েছে, তাহলে কি অভিনয় ছেড়ে দেবেন মাহি? এই নিয়ে তিনি কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে।
চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মাহির ভক্ত-দর্শকের মধ্যে দেখা দিয়েছে এমন প্রশ্ন। এরই মধ্যে খ্যাতিমান অভিনেতা মিশা সওদাগর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাহির এমন হুট করে বিয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত বুধবার রাতে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন মিশা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ফাজলামি বন্ধ করা উচিত। না হলে ইন্ডাস্ট্রি ফাইনালি বন্ধ হয়ে যাবে। একটা শিল্পী যখন তার অভিনয়ের জাদু দেখিয়ে বক্স-অফিস হিট করে ইন্ডাস্ট্রির অপরিহার্য হয়, তখন সে ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়ে যায়। সে তখন কোনো হুটহাট সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ, তার দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। কিন্তু আজকালকার নায়ক-নায়িকাদের সিদ্ধান্ত ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করছে।’
মাহির বিষয়ে মিশা লিখেছেন, ‘আমার দেখা নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী নায়িকার হঠাৎ বিয়ের সংবাদে আমি হতবাক। এরা একটিবারও তাদের দায়বদ্ধতার কথা ভাবল না। আমি এ প্রজন্মের এ রকম হুটহাট সিদ্ধান্তকে কখনোই স্বাগত জানাতে পারব না। কারণ, আমার পরিবার আমাকে আজকের এই মিশা সওদাগর বানায়নি। আমার নাম, আমার খ্যাতি, আমার প্রাচুর্য, আমার জাতীয় পুরস্কার—সব ইন্ডাস্ট্রি দিয়েছে। হুটহাট সিদ্ধান্তের পরিসমাপ্তি হোক।’
নায়ক আরিফিন শুভকে ইঙ্গিত করে মিশা সওদাগর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হঠাৎ পত্রিকায় দেখলাম, একজন নতুন ট্যালেন্টেড নায়ক একজন ইন্ডিয়ান মেয়েকে বিয়ে করে ফেলল।’
ক্যারিয়ারের এ মুহূর্তে মাহির বিয়ে করাকে ঠিক মেনে নিতে পারছেন না মিশার মতো অনেকেই। চলচ্চিত্রে অভিনয় ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তাই কথা হয় মাহিয়া মাহির সঙ্গে। চলুন জেনে নিই, মাহি কী ভাবছেন বিয়ে-পরবর্তী ক্যারিয়ার নিয়ে।
প্রশ্ন : এরই মধ্যে সবার মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, আপনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত থাকবেন কি না। অনেকেই মনে করছেন, আপনার বিয়ে চলচ্চিত্রের জন্য সুখকর নয়। সিনিয়র অভিনেতা মিশা সওদাগর এ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মাহি : আমি আসলে চলচ্চিত্রকে ভালোবাসি এবং সারা জীবন চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করতে চাই। আর মিশা ভাই যা লিখেছেন, সেটা আমাকে ও চলচ্চিত্রকে ভালোবাসেন বলেই লিখেছেন। চলচ্চিত্র আমাকে যে সম্মান এনে দিয়েছে, আমিও সব সময় সচেষ্ট থাকব চলচ্চিত্রকে সম্মান দিতে। যাঁরা মনে করছেন, আমি চলচ্চিত্র থেকে হারিয়ে যাব, তাঁদের বলছি, আমি হারাতে চাই না। আমি জানি না, বিয়ের পর আমার ছবি ভক্তরা দেখতে যাবেন কি না। তাদের বলতে চাই, প্লিজ, তোমরা অবশ্যই আমার ছবি দেখতে যাবে। আর আমার ফেসবুকের ইনবক্সে অনেকেই লিখেছে, ‘যারে যাবি যদি যা’, আমি যেতে চাই না। যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা যে শুধু উইশ করছে তা নয়, বিয়ে নিয়ে মন খারাপও করছে, কারণ তারা শুধু আমাকে নয়, আমার চলচ্চিত্রকেও ভালোবাসে।
প্রশ্ন : বিয়েটা যেহেতু হুট করেই হয়ে গেল, আপনার কাজগুলোর ওপর কি বিয়ের প্রভাব পড়বে?
মাহি : হ্যাঁ, অবশ্যই আমি কাজগুলো করব। কেন করব না? যেভাবে সিডিউল দেওয়া আছে, আমি কাজগুলো সেভাবেই শেষ করব। মাঝে শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানটা করতে চাই। যেহেতু আমার সহকর্মীদের বিয়েতে দাওয়াত দিতে পারিনি, তাই তাঁদের নিয়ে সুন্দর একটা অনুষ্ঠান করতে চাই। আর চলচ্চিত্র নিয়ে আমি এতটাই সিরিয়াস যে গায়ে হলুদের দিনও আমি সিনেমার মিটিং করেছি এবং মিটিং সাকসেসফুল ছিল।
প্রশ্ন : বিয়ে তো হলো, এখন কবে থেকে কাজ শুরু করবেন?
মাহি : আমি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি ছবির শুটিং শুরু করছি। নতুন ছবি, আমি ছাড়া আর কে থাকছেন ছবিতে, তা এখনই বলতে চাইছি না। বদিউল আলম খোকন স্যারের ‘হারজিৎ’ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু চিত্রনাট্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে শুটিং শুরু করতে পারছেন না। আমি খুবই স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ছবির জন্য যে সিডিউল যেভাবে দেওয়া আছে, আমি সেভাবেই শুটিং করব। আমি অভিনয়ের বিষয়ে সব সময়ই সিরিয়াস, এ জন্য বিয়েতে নাক ফোড়াইনি, ছবির কন্টিনিউটি ব্রেক হবে বলে।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন, বিয়ের পর ঠিকঠাকভাবে চলচ্চিত্রে কাজ করতে পারবেন?
মাহি : এ বিষয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি এমনিতেই বেছে বেছে কাজ করি। এখন আরো বেছে কাজ করব। বছরে দু-একটা কাজ করার ইচ্ছা আছে, তবে নিয়মিত কাজ করতে চাই। কারণ, এটাই আমার পরিচয়, ভালোলাগা, ভালোবাসা। আমি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই।


