নির্বাচন পরবর্তী হামলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, তাদের বসতবাড়ি, মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা লুটপাট চালিয়েছে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা। কক্সবাজারে খুরুশকুল ইউনিয়নের এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন। শনিবার দিবগত রাতে খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন জানিয়েছেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়ার ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী মাখন দে ৬৮ ভোটের ব্যবধানে অপর প্রার্থী আবুল হোসেনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। এর জের ধরে আবুল হোসেনের ১০০/১৫০ জন লোক মধ্যরাতে কুলিয়াপাড়া হিন্দু বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার সত্যতা স্বীকার করেন নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, হামলায় কয়েকটি হিন্দু বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের লোকনাথ মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে ১০জনকে আহত করেছে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন।
খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিলক ঘোষ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, এ হামলার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী রোববার বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। বেলা ১২টায় মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশ করে। এতে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট রণজিত দাশসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।
পরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে বিক্ষোভ তুলে নেয় এলাকাবাসী।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।


