বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অফিসের জন্য ভাড়া বাড়ি পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ

AL-ddজাতীয় সম্মেলনের পর ভেঙে ফেলা হবে আওয়ামী লীগের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়। নির্মাণ করা হবে যুগোপযোগী করে। তাই অস্থায়ী অফিস খুঁজছেন নেতারা। কথা ছিল, গত ২৯ মে সোমবারের মধ্যেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়বে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো। অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য পছন্দমতো জায়গায় ভাড়ায় অফিস খুঁজে না পেয়ে সংগঠনের নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। অবশেষে তাদের দুশ্চিন্তামুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংগঠনের নেতাদের তিনি জানিয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আপাতত ছাড়তে হবে না তাদের।

জি-সেভেন আউটরিচ মিটিং উপলক্ষে জাপানে চার দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে গত রোববার রাতে সাক্ষাৎ করেন সহযোগী সংগঠনের নেতারা। অনুরোধ করেন আপাতত কেন্দ্রীয় কার্যালয় না ভাঙতে। প্রধানমন্ত্রী তাদের অনুরোধে সাড়া দেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন নেছা মোশাররফ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত নতুন দলীয় কার্যালয় নির্মাণের লক্ষ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আপাতত আরও কিছুদিন দলীয় কার্যালয় হিসেবে ভবনটি ব্যবহারের জন্য সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনুমতি দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে যত দ্রুত সম্ভব সহযোগী সংগঠনগুলোর জন্য ভাড়ায় নতুন অফিস নেওয়া হবে। এখন অস্থায়ী অফিস খোঁজা হচ্ছে।’

দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশেই নতুন অফিস খুঁজে দেখা হচ্ছে। অস্থায়ী নতুন অফিস হিসেবে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রথম পছন্দ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (ন্যাটাব) ভবন। এ জন্য এরই মধ্যে ন্যাটাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সঙ্গে দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা কথা বলেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ের ওই আলোচনায় অবশ্য চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত নয়তলার ন্যাটাব ভবনটিতে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। তাই ন্যাটাবের পক্ষ থেকে ভবনটি ভাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম।’

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ভাড়ায় অস্থায়ী অফিসের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পেছনের ভবন, রমনা ভবনের পঞ্চম তলা কিংবা গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি পরিত্যক্ত মার্কেটকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নেতারা সুবিধাজনক জায়গায় ভবন খুঁজছেন।

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮২ সালে। এই কার্যালয়ের বর্তমান মালিকানা আওয়ামী লীগের। কার্যালয়টিতে বর্তমানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের অফিস রয়েছে। এই সংগঠনগুলো একই ভবনে নতুন অফিস স্থাপনে আগ্রহী।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, নতুন অফিসের ভাড়া পরিশোধ করবেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগ নেতারা। এ ছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগ অফিসের ভাড়া পরিশোধ করবে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি অংশে অস্থায়ীভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে যুব মহিলা লীগ।

আরও পড়ুন