বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’র আত্মসমর্পণ

bondusshoস্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সুন্দরবনের বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার (৪৫) ও তার আরও নয়জন সহযোগী আত্মসমর্পণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে।

আত্মসমর্পণকারী বাকি নয়জন হলেন- সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সোহাগ আকন, মো. সোলায়মান শেখ, ফজলু শেখ, মো. সুলতান খাঁ, শাহীন শেখ, সুমন সরদার, আরিফ সরদার, মো. হারুন ও আসাদুল ইসলাম ওরফে কোকিল।

মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৩টায় মংলার বিএফডিসি জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ডের বেশি গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে মাস্টার বাহিনী।

এ সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গোয়েন্দা) কর্নেল আনোয়ার হোসেন, খুলনা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম, পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যাসহ প্রশাসনরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বনডাকাতরা সমাজের ক্ষতিকর মানুষ হিসাবে রূপ নিয়েছে। এই উপলব্ধি থেকে তারা আজ আত্মসমর্পণ করেছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যে কাজ শুরু করেছে, সে কাজের জন্য আমরা তাদের সব ধরনের আইনি সহযোগিতা দিয়ে যাবো। সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালী, মৎস্যজীবী, বনজীবী তারা যাতে সুন্দরভাবে কাজ কর্ম পরিচালনা করতে পারে তার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সুন্দরবনটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। এজন্য আমাদের কোস্টগার্ড র‌্যাব, নৌপুলিশ, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। কোস্টগার্ড সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতে নির্বিঘ্নে টহল দিতে পারে এজন্য বিদেশ থেকে ৪টি জাহাজ আনা হয়েছে।’

homeminister-তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনকে নিরাপদ স্থান হিসাবে দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সুন্দরবনকে একটি পর্যটন জোন হিসাবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, যারা আত্মসমর্পন করেনি তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে আমরা সব ধরনের সহায়তা করবো। এ জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

বনডাকাত মোস্তফা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আবদুল লতিফ একজন মাছ ব্যবসায়ী। মোস্তফার ছোট ভাই কামরুল দুই বছর আগে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। সুন্দরবনে জেলেদের ত্রাস ছিল মাস্টার বাহিনী। নৌকা ও জেলেদের জিম্মি করে বড় অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করত এই মাস্টার বাহিনী। আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুন্দরবনের ভয়ংকর এই অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনের পথে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ডাকাতরা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। সেই লক্ষে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হাড়বাড়িয়ার চরাপুটিয়া এলাকায় র‌্যাবের কাছে এ মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ৭ ডাকাত দেশি-বিদেশি ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ হাজার গুলি জমা দিয়েছেন।

কিন্তু ওইদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফলে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।’  শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা র‌্যাব-৬ জানায়, রোববার মংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন মাস্টার বাহিনীর ডাকাতদল।

র‌্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের পশ্চিম উপকূল এবং সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালদের ত্রাস ডাকাতদল ‘মাস্টার বাহিনী’। নৌকা ও জালের হিসাব করে নির্ধারিত হারে ডাকাতদের চাঁদা দিতে হতো জেলে ও বনজীবীদের। এতোদিন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল এ বাহিনীর সদস্যরা। ডাকাতদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

আরও পড়ুন