২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “বিএনপি এই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক দলের পর্যায়েই নেই। বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল দেশ। এখানে মেজোরিটি (অধিকাংশ) মানুষই প্রগতিশীল। প্রতিক্রিয়াশীল বলতে যাদের বুঝায়, তারা কোনো পর্যায়েই নেই বাংলাদেশে। আর বিএনপি সর্ম্পকে কি বলব, বিএনপি তো এই মুহূর্তে কোনো দলই নয়, বিরোধী দল তো নয়ই।”
ঘোষিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ আখ্যায়িত করে বিএনপি বলেছে, “… এতে বিনিয়োগের কোনও দিক নির্দেশনা নেই। কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার, সেই বেকারত্বের বিষয়ে এই বাজেটে কোনও ফোকাস নেই। এই বাজেট তো মিথ্যা বাজেট, এটা চুরির বাজেট এবং চোরদের বাজেট। এতে জনকল্যাণ কিছুই হবে না। বরং এই বাজেট হবে দুর্নীতি প্রটেকশন বাজেট।”
অর্থমন্ত্রীর কথার রেশ ধরে অনুষ্ঠানে পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যারা (বিএনপি) ঘোষিত বাজেটকে প্রতিক্রিয়াশীল বলছে, আমার মনে হয় তারা বাজেট পড়েনও নাই, কিংবা বাজেট অনুষ্ঠানটি দেখেনও নাই। যে বাজেটে হাজার কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ থাকে, তাকে প্রতিক্রিয়াশীল বাজেট কীভাবে বলা যায়?’
তোফায়েল আহমেদ এই বাজেটকে প্রগতিশীল বাজেটের পাশাপাশি জনমুখী বাজেট বলেও অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ঘোষিত বাজেটে গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়নের কথা রয়েছে। সামাজিক উন্নয়নের কথা রয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ের বিনিয়োগের কথা রয়েছে, এটি অবশ্যই একটি জনমুখী বাজেট, প্রগতিশীল বাজেট। একই সঙ্গে এটি বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট।’
অনুষ্ঠানে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও কথা বলেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে বাজেটের বিভিন্ন পজেটিভ দিক তুলে ধরে বলেন, যেখানে বাজেট সম্পর্কে এক ডজন প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক, সেখানে এই বাজেটকে প্রতিক্রিয়াশীল বলা বোকামি আর গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছু নয়।


