বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে সৌদি আরবে পৌঁছে প্রথমেই ওমরাহ পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌন ১টায় প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে জেদ্দা থেকে মক্কায় পৌঁছান। হারাম শরীফ সংলগ্ন মক্কা গেস্ট প্যালেসে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর প্রধানমন্ত্রী তাওয়াফ শুরু করেন।
ওমরাহ শেষে প্রধানমন্ত্রী দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড় প্রদক্ষিণ করেন। মক্কায় প্রধানমন্ত্রী ফজরের নামাজ আদায় করেন। বিকালে তার জেদ্দায় ফেরার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর অন্য সফরসঙ্গীরাও এ সময় পবিত্র ওমরাহ পালন করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দা থেকে শুক্রবার মধ্যরাতে সড়কপথে মক্কা নগরীতে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে বর্তমানে ৫ দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটে রওনা দিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজ তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এরপর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেয়। এ সময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পর কিং ফয়সাল প্যালেসে অনুষ্ঠিত এক ভোজসভায় যোগ দেন।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করেন। নৈশভোজ শেষে জেদ্দা কনফারেন্স প্যালেসে আসেন শেখ হাসিনা। জেদ্দায় সেখানেই অবস্থান করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, শেখ রেহানা, সৌদি আরবের হজ এবং ওমরাহ বিষয়কমন্ত্রী ড. মোহাম্মাদ সালেহ বিন তাহের বেনটেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট ড. আহমেদ মোহাম্মাদ আলী আল মাদানী, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) মহাসচিব ইয়াদ বিন আমিন মাদানী অন্যদের মধ্যে ভোজসভায় অংশগ্রহণ করেন।
সৌদি বাদশাহ সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই তেলসমৃদ্ধ দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম সফর। সর্বশেষ ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
ওমরাহ শেষে শনিবারই মক্কা থেকে জেদ্দা ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে জেদ্দা থেকেই তিনি রিয়াদে বাংলাদেশের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স এবং বাংলাদেশ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
রোববার জেদ্দার আল আন্দালুসে আল সালাম প্রাসাদে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
সেখানে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রম বাজার সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে সৌদি সহায়তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা এবং হজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই শীর্ষ নেতা মত বিনিময় করবেন। এসব আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স, উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে মদিনার উদ্দেশে জেদ্দা ত্যাগ করবেন এবং মদিনায় পৌঁছে হিলটন হোটেলে অবস্থান করবেন।
সেখানে মসজিদে নববীতে আছর এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকালে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছনোর কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের।


